স্বাস্থ্য
নীলফামারীতে বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী হাসপাতালের অনুমোদন
উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত একনেকের ৮ম সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস।
প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নীলফামারীর এই হাসপাতাল কেবল একটি অবকাঠামোগত উদ্যোগ নয়; বরং এটি দেশের স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষ নিজ এলাকায় থেকেই উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, রংপুর ও ঢাকাকেন্দ্রিক বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। নীলফামারীতে এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যসেবায় এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। নেপাল ও ভূটানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর রোগীরাও এখানে উন্নত চিকিৎসা সেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন, যা আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ১৭৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং অবশিষ্ট অংশ চীনের অনুদান সহায়তা হিসেবে আসবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চে চীন সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের কাছে বাংলাদেশে একটি আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনের অনুরোধ জানান। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই চীন দ্রুত এই প্রকল্পে সহযোগিতার উদ্যোগ নেয়।
প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী সদর উপজেলায় একটি ১০ তলা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ডরমেটরি ও আবাসিক ভবন, ডিরেক্টরস বাংলো, প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো এবং অত্যাধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে।