সারাবিশ্ব

কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে: থাই প্রধানমন্ত্রী


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৫, ০৫:০৩ পিএম

কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে: থাই প্রধানমন্ত্রী
থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ভেচায়াচাই। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ভেচায়াচাই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তে চলমান সংঘর্ষ ক্রমেই বিপজ্জনক দিকে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তা যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) ব্যাংককে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে এটি সীমিত পর্যায়ের সংঘর্ষ হলেও, যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে—তাহলে তা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।”

বার্তা সংস্থা এএফপি ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সীমান্তে একে অপরকে লক্ষ্য করে ভারি কামান ও রকেট হামলা চালিয়েছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। এতে এখন পর্যন্ত থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সংঘাতে ১৪ জন বেসামরিক নাগরিক ও এক সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১৫ সেনাসহ অন্তত ৪৬ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে সীমান্ত এলাকার কয়েকটি হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৪২৮ রোগীকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী খোলা হয়েছে ৩০০টি আশ্রয়কেন্দ্র।

কম্বোডিয়ার এক সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, থাই বাহিনীর হামলায় তাদের এক ৭০ বছর বয়সী বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বিবিসির বরাতে জানা যায়, কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন অভিযোগ করেছে, থাই সেনারা তাদের ভূখণ্ডে নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করেছে। যদিও থাই সরকারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

উল্লেখ্য, বিশ্বের বহু দেশে ক্লাস্টার বোমা নিষিদ্ধ, কারণ এটি এলোমেলো বিস্ফোরণের মাধ্যমে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটায়।

সংঘাতের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ে আজ শুক্রবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকটি আহ্বান করা হয়েছে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের অনুরোধে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ায় থাইল্যান্ড সরকার কম্বোডিয়ার সঙ্গে সব ধরনের সীমান্ত যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি কম্বোডিয়ায় বসবাসরত থাই নাগরিকদের দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার সীমান্ত বিরোধের ইতিহাস বেশ পুরনো। ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনামলে সীমান্ত নির্ধারণের সময় থেকেই এই বিরোধের সূত্রপাত। বিশেষ করে ২০০৮ সালে, কম্বোডিয়া যখন বিরোধপূর্ণ অঞ্চলের একটি প্রাচীন মন্দিরকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন করে, তখন থাইল্যান্ড কড়া প্রতিবাদ জানায়। এর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে বিভিন্ন সময়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে।

এই মুহূর্তে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, তা শুধু দুই দেশের নয়, বরং পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।