সারাবিশ্ব
উত্তর কোরিয়ায় আত্মহত্যা নিষিদ্ধ, ব্যর্থ প্রচেষ্টাকারীদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান
আত্মহত্যা নিষিদ্ধ দেশ উত্তর কোরিয়ায় এখন আত্মহত্যার চেষ্টাকারীদের জন্যও মৃত্যুদণ্ডের বিধান জারি করা হয়েছে। এমন কঠোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন আত্মহত্যা প্রতিরোধে এক নতুন মাত্রা যুক্ত করেছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর কোরিয়ায় আত্মহত্যা একটি নিষিদ্ধ কাজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে অর্থনৈতিক সংকট, খাদ্যাভাব ও সামাজিক হতাশা বেড়ে যাওয়ায় আত্মহত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (NIS) জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ায় আত্মহত্যার সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক মুখপাত্র বলেন, “উত্তর কোরিয়ায় বর্তমানে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা প্রবল। সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়েছে, খাদ্যসংকট ভয়াবহ পর্যায়ে। অনেকেই অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও।”
সম্প্রতি দেশটির রায়ংগ্যং প্রদেশে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে কিম জং উনের নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে বলা হয়, “জেনারেল সেক্রেটারি আত্মহত্যা প্রতিরোধ নীতি অনুমোদন করলেও, স্থানীয় কর্মকর্তারা এখনো কার্যকর সমাধান বের করতে ব্যর্থ হয়েছেন।”
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৈঠকে স্বীকার করেন, “দেশে অনাহার ও দারিদ্র্যের কারণে অনেকেই নিজের জীবন নিচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ তাদের থামাতে পারছে না। আত্মহত্যার ঘটনা অনাহারে মৃত্যুর চেয়ে বেশি সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।”
এই পরিস্থিতিতে কিম জং উনের নতুন নীতিতে বলা হয়েছে— যে কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করে বেঁচে যাবে, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এই নীতি আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে “মনস্তাত্ত্বিক ভয়” তৈরি করবে।
তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এটি মূলত ভয়ভিত্তিক শাসনেরই এক নতুন রূপ। জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ায় এখনকার কঠোর বাস্তবতায় মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে ক্ষুধা, দমননীতি, ও মৌলিক স্বাধীনতার অভাবে।
উত্তর কোরিয়া এখন বিশ্বের অন্যতম বিচ্ছিন্ন দেশ, যেখানে তথ্যপ্রবাহ সীমিত এবং শাসকবিরোধী কর্মকাণ্ডের শাস্তি প্রায় সবক্ষেত্রেই মৃত্যুদণ্ড। বিশ্লেষকদের মতে, আত্মহত্যার শাস্তিতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণাও সেই কঠোর নিয়ন্ত্রণনীতিরই ধারাবাহিকতা।