সারাবিশ্ব

৩৭ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ছিলেন খামেনি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম

৩৭ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ছিলেন খামেনি
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় ইরানের শাসনব্যবস্থা ব্যতিক্রমধর্মী। সেখানে জনগণের ভোটে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে। এই পদে টানা ৩৭ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।

১৯৩৯ সালে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পবিত্র শহর মাশহাদ–এ জন্মগ্রহণ করেন আলী খামেনি। তিনি জন্মসূত্রে একজন ধর্মীয় পণ্ডিতের সন্তান। তরুণ বয়সেই ধর্মীয় শিক্ষায় দীক্ষিত খামেনি ১৯৬২ সালে ইরানের ইসলামী আন্দোলনের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি–এর নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লব সফল হওয়ার পর খামেনি দ্রুত রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। তিনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং একই সময়ে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৮৯ সালের জুন মাসে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আসে। ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ পরিষদ খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে নির্বাচন করে। সেই সময় থেকেই তিনি রাষ্ট্রের নির্বাহী, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর ওপর দৃঢ় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।

দীর্ঘ শাসনামলে খামেনি ইরানের ভেতরে যেকোনো বড় ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক চ্যালেঞ্জ কঠোর হাতে দমন করেছেন বলে সমালোচকদের অভিযোগ। একই সঙ্গে তিনি পররাষ্ট্রনীতিতেও আপসহীন অবস্থান বজায় রাখেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাঁর কড়া অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বারবার ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়েছেন এবং হলোকাস্টের ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়েও প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ছয় সন্তানের জনক খামেনির শাসনামলে ইরানে মোট সাতজন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে রাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতা বরাবরই তাঁর হাতেই কেন্দ্রীভূত ছিল। ফলে আধুনিক ইরানের ইতিহাসে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক প্রভাবশালী, বিতর্কিত এবং দীর্ঘতম সময় ক্ষমতায় থাকা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।