সারাবিশ্ব

ঢাকায় বিমান দুর্ঘটনায় চীন-ভারত-পাকিস্তানসহ যেসব দেশ শোক জানিয়েছে


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৫, ১০:১৬ এএম

ঢাকায় বিমান দুর্ঘটনায় চীন-ভারত-পাকিস্তানসহ যেসব দেশ শোক জানিয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। নিহতদের অধিকাংশই শিশু ও কিশোর শিক্ষার্থী হওয়ায় দুর্ঘটনাটি বিশ্ববাসীকেও মর্মাহত করেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বার্তায় বলেন, “ঢাকায় একটি মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের অনেকেই তরুণ শিক্ষার্থী—যা হৃদয়বিদারক। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি এবং সম্ভাব্য সব রকম সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার আলাদাভাবে শোকবার্তা পাঠিয়ে বলেন, “আমরা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে এই দুঃখের মুহূর্তে একাত্মতা প্রকাশ করছি, বিশেষ করে যেসব পরিবার তাদের শিশু সন্তান হারিয়েছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, “উত্তরার ভয়াবহ দুর্ঘটনায় যারা তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। এই কঠিন সময়ে আমরা বাংলাদেশের পাশে আছি।”

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের আত্মার শান্তি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

জাপান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নাওকি তাকাহাশি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “এই কঠিন সময়ে জাপান বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে তা প্রশংসনীয়।”

সুইস দূতাবাস জানায়, “একটি স্কুল ভবনের ওপর বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা হৃদয়বিদারক। আমরা নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে আছি।”

সুইডিশ দূতাবাস বলেছে, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারকে আমাদের সহানুভূতি জানাই।”

ইইউর পক্ষ থেকে এক বার্তায় বলা হয়, “আমরা এই দুর্ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা।”

ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, “বিমান দুর্ঘটনার ঘটনায় আমরা শোকাহত। উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া জরুরি সেবা সংস্থার সকল সদস্যকে আমাদের শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।”

এই আন্তর্জাতিক বার্তাগুলো শুধু শোক প্রকাশ নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও বন্ধুত্বের প্রকাশ। উত্তরা দুর্ঘটনার মতো বড় মানবিক ট্র্যাজেডিতে যখন গোটা জাতি শোকাহত, তখন বৈশ্বিক সহমর্মিতা কিছুটা হলেও সান্ত্বনা এনে দিচ্ছে।