সারাবিশ্ব
নেপালে দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ-সেনাবাহিনী মোতায়েন, নিহত বেড়ে ১৬
দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে নেপালের তরুণ সমাজ। টানা কয়েকদিন ধরে উত্তাল বিক্ষোভে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানী কাঠমান্ডু। পার্লামেন্ট ভবনে হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ‘শুট-অ্যাট-সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। বিভিন্ন পয়েন্টে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য হিমালয়ান টাইমস জানিয়েছে, সরকারি বাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় কাঠমান্ডু শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।
বিক্ষোভের সূচনা মূলত হয় সরকারের নতুন এক আইনের বিরুদ্ধে, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে হলে সেগুলোর অফিস নেপালে স্থাপন, নিবন্ধন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একজন স্থানীয় প্রতিনিধি নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়। ৩ সেপ্টেম্বর ছিল এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের শেষ দিন। কিন্তু শর্ত না মানায় ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার), রেডিট, লিংকডইনসহ মোট ২৬টি সামাজিক মাধ্যম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ছিল কেবলমাত্র ঘি ঢালার কাজ। বহুদিনের দুর্নীতি, রাজনৈতিক অচলাবস্থা, বেকারত্ব ও সুশাসনের অভাবে জনমনে জমে থাকা ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে।
সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কান্তিপুর টিভি-র সাংবাদিক শ্রেষ্ঠা। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সব হাসপাতালে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভ সামাল দিতে সেনাবাহিনীর ২ থেকে ৩টি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে, যা বর্তমানে কেবল কাঠমান্ডু শহরে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে প্রয়োজনে তা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল।
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকে বসেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।