সারাবিশ্ব
ত্রাণের আড়ালে পাকিস্তানে আসছে মার্কিন সমরাস্ত্র: দাবি ভারতের
সম্প্রতি পাকিস্তানের নুর খান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক মালবাহী বিমানের একাধিকবার অবতরণ ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সন্দেহ। ভারত বলছে, ‘ত্রাণের’ আড়ালে হয়তো পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে অত্যাধুনিক মার্কিন সমরাস্ত্র।
উল্লেখ্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতের মিসাইল হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল রাওয়ালপিন্ডির কাছের এই ঘাঁটিটি। হামলার পর তিন মাস বন্ধ থাকা এই ঘাঁটিতে হঠাৎ করেই ছয়টি মার্কিন ‘সি-১৭ গ্লোবমাস্টার’ বিমান অবতরণ করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা-দুর্গত পাকিস্তানের জন্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিয়েই এসেছিল এই বিমানগুলো। ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস এক্স হ্যান্ডলে (পূর্বের টুইটার) এক বিবৃতিতে জানায়, “পাকিস্তানের অনুরোধে আমরা জরুরি সহায়তা পাঠিয়েছি।” মার্কিন চার্জ দ্য’অ্যাফেয়ার্স নাটালি বেকার ঘাঁটিতেই সামগ্রী হস্তান্তর করেন পাক সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে।
তবে এসব ব্যাখায় সন্তুষ্ট নয় ভারত। নয়াদিল্লির নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণ ত্রাণসামগ্রী পরিবহনের জন্য সামরিক বিমান ব্যবহারের কোনও যৌক্তিকতা নেই, বিশেষ করে যখন ইসলামাবাদ বা লাহোরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো সচল রয়েছে।
ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের মতে, এত উচ্চপর্যায়ে সেনা জেনারেলদের উপস্থিতিতে ঘাঁটিতে ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর নজরে রাখার মতো বিষয়। এ ধরনের কাজে সাধারণত বেসামরিক প্রশাসনের প্রতিনিধিদেরই দেখা যায়। সেখানে তাদের অনুপস্থিতি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) অবশ্য জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাঁবু, পানি নিষ্কাশনের পাম্প এবং জেনারেটর পাঠানো হয়েছে, যা দুর্গত এলাকায় বিতরণ করা হবে।
তবুও ভারত আশঙ্কা করছে, এই সামগ্রীর আড়ালেই ঢুকছে কিছু ‘অতিরিক্ত’ সরঞ্জাম—যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।