সারাবিশ্ব

হুমকি না দিয়ে নিজের দেশের সমস্যায় মনোযোগ দেন, ট্রাম্পকে মাদুরোর জবাব


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৫৮ পিএম

হুমকি না দিয়ে নিজের দেশের সমস্যায় মনোযোগ দেন, ট্রাম্পকে মাদুরোর জবাব
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পদত্যাগই হবে ‘বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত’—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাদুরো। তিনি বলেছেন, হুমকি দেওয়ার পরিবর্তে ট্রাম্পের উচিত নিজের দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়া।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে মাদুরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বিশ্বে সম্মানজনক ভূমিকা রাখতে চায়, তাহলে আগে নিজেদের ঘর সামলানো জরুরি। তার ভাষায়, ‘অন্য দেশকে হুমকি না দিয়ে নিজের দেশের সমস্যার সমাধানেই মন দেওয়া ভালো।’

এর আগে সোমবার ফ্লোরিডায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর ক্ষমতায় থাকা মাদুরো পদ ছাড়বেন কি না, তা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল, ‘আমার মতে, সেটাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।’ একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, মাদুরো যদি কঠোর অবস্থান নেন, তবে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানিকে লক্ষ্য করে দেশটির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরও জোরদার করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার প্রধান মিত্র রাশিয়া মাদুরো সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকলেও মস্কো স্পষ্টভাবে কারাকাসের পাশে থাকার ঘোষণা দেয়, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আসন্ন বৈঠকের আগে।

রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নৌ অভিযানের কঠোর সমালোচনা করা হয়। এসব অভিযানের মধ্যে রয়েছে মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে হামলা এবং দুটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দের ঘটনা।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, সের্গেই লাভরভ ও ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা আশঙ্কা করেছেন, এসব পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণের প্রতি রাশিয়া তাদের পূর্ণ সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে—বিশেষ করে জাতিসংঘে—সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার আরেক ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনও দেশটির সংকট নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বানের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। কারাকাসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ‘চলমান আগ্রাসন’ নিয়ে আলোচনার জন্য এই বৈঠক জরুরি।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইভান গিল জানান, ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে তারা ‘আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ হিসেবে দেখছেন। এর মধ্যে নৌযানে হামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অবৈধ জলদস্যুতা কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে মস্কো ভেনেজুয়েলার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে যেসব নৌযানে অভিযান চালানো হয়েছে, সেগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অভিযানে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে জেলেরাও ছিলেন।

এর আগে ১৬ ডিসেম্বর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলায় যাতায়াতকারী ‘নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী জাহাজের’ বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবরোধ আরোপ করা হবে। তার অভিযোগ, মাদুরো সরকার তেলের অর্থ ব্যবহার করছে মাদক সন্ত্রাস, মানব পাচার, হত্যা ও অপহরণে অর্থায়নের জন্য।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের তেল সম্পদ ‘কবজা’ করেছে- যা দেশটির তেল খাত জাতীয়করণের প্রতি ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের তেল ফেরত চাই।’ এর জবাবে কারাকাস অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ চালানোর দায়ে অভিযুক্ত করেছে।