সারাবিশ্ব
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মধ্যেই আলোচনা প্রত্যাখ্যান করলো ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি অব্যাহত থাকলে কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না—স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ না করায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বহর মোতায়েন করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি নৌবহর ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে, যদিও তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে কিংবা দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পথও বিবেচনায় রাখতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কড়া ভাষায় বলেন, হুমকি দিয়ে কূটনীতি পরিচালনা কখনোই কার্যকর বা ফলপ্রসূ হয় না। টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই আলোচনা চায়, তবে হুমকি, অতিরিক্ত শর্ত এবং অযৌক্তিক দাবি থেকে সরে আসতে হবে।
আরাঘচি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার সঙ্গে মার্কিন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের কোনো যোগাযোগ হয়নি এবং ইরানও আলোচনার উদ্যোগ নেয়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরান আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে ফোনালাপ হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আরব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ায় তেহরান।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটি উত্তেজনা প্রশমনে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এ ছাড়া মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি আলাদাভাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন দূতের সঙ্গে ফোনালাপ করে উত্তেজনা কমানো এবং সংলাপ পুনরায় শুরুর পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান।