সারাবিশ্ব
চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে কিম জং উনের নতুন বার্তা
চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। সাম্প্রতিক শীর্ষ বৈঠককে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘ঐতিহাসিক অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বুধবার (১ জুলাই) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি জানায়, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় কিম জং উন এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বার্তায় তিনি বলেন, দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সমাজতান্ত্রিক আদর্শের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা উত্তর কোরিয়া–চীন সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়াই তার দল ও সরকারের দৃঢ় অবস্থান।
পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক শীর্ষ বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে কিম জং উন বলেন, এই বৈঠক দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও ‘কমরেডসুলভ বন্ধুত্ব’ আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও জানান, বৈঠকে উভয় নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে সম্পর্ককে আরও কৌশলগত ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে একটি যৌথ রূপরেখাও গ্রহণ করা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, সফরের সময় শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক, আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ ও ৯ জুন পিয়ংইয়ং সফর করেন শি জিনপিং। প্রায় সাত বছর পর এটি ছিল উত্তর কোরিয়ায় চীনা প্রেসিডেন্টের প্রথম সফর।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হলেও চীন এখনো উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অংশীদার। দক্ষিণ কোরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৮ শতাংশই চীনের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, চীন ও উত্তর কোরিয়ার এই নতুন কূটনৈতিক বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।