সারাবিশ্ব

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে তিন বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে তিন বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তিন বছর বয়সী শিশু ক্লেইবার মোরানকে। দুর্যোগের মধ্যে এই অলৌকিক ঘটনাকে আশার প্রতীক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল জানায়, লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাকে নিরাপদে বের করে আনছেন।

দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, এই সফল উদ্ধার অভিযান ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষের মনে নতুন করে আশা জাগিয়েছে।

জর্ডানের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায়, উদ্ধার করার পরপরই শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, রাজধানী কারাকাসে তার চিকিৎসা চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম বাহাত্তর ঘণ্টা জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। সেই হিসেবে ছয় দিন পর শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

গত সপ্তাহে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৯৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ এবং এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার উপগ্রহভিত্তিক প্রাথমিক মূল্যায়নে জানানো হয়েছে, প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে।

খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে দুর্দশা

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হাজারো মানুষ জরুরি খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে ভুগছেন। লা গুয়াইরা অঞ্চলে খাদ্যসংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় ত্রাণ বিতরণেও ব্যাঘাত ঘটছে।

আহত স্থানীয় বাসিন্দা ড্যানিয়েলা আরমাস জানান, সীমিত ত্রাণসামগ্রীর কারণে অনেক ক্ষেত্রে খাবারের জন্য হুড়োহুড়ি হচ্ছে।

আগামী ছয় মাসে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ হাজার মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ ও আশ্রয় নিশ্চিত করতে প্রায় দেড় কোটি ডলার সমপরিমাণ সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। টিকাদানের হার কম থাকায় হামসহ প্রতিরোধযোগ্য রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

এদিকে উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। সময় পেরিয়ে গেলেও ক্লেইবার মোরানের জীবিত উদ্ধার দুর্যোগপীড়িত মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।