সারাবিশ্ব
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পাত্র-পাত্রী খোঁজার অ্যাপ চালু করল সিঙ্গাপুর
জন্মহার কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন পাত্র-পাত্রী খোঁজার সেবা চালু করেছে সিঙ্গাপুর সরকার। ‘ফার্স্টডেট’ নামের এই উদ্যোগটি চলতি সপ্তাহে ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
প্রচলিত পাত্র-পাত্রী খোঁজার অ্যাপের মতো একের পর এক ব্যক্তিকে পছন্দ বা বাদ দেওয়ার পরিবর্তে বিশেষ গাণিতিক পদ্ধতির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের একবারে একজন সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হবে এই সেবায়। অংশগ্রহণকারীরা সিঙ্গাপুরের জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়পত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করে এতে প্রবেশ করতে পারবেন। এরপর নিজেদের পছন্দ, অভ্যাস ও মূল্যবোধ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
তবে নতুন এই উদ্যোগ নিয়ে সিঙ্গাপুরবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় প্রতারণার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। অন্যদিকে অনেকে বয়সসীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের এই উদ্যোগের বাইরে রাখায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকা এই সেবা ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সিঙ্গাপুরে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়াই মূলত এমন উদ্যোগের পেছনে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা গত ৬০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৩০ হাজারের নিচে নেমে যায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও পরিবার গঠনে উৎসাহ দিতে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং বিভিন্ন আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও দিয়েছেন।
এর আগে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বিয়ের প্রবণতা বাড়াতে বিশেষ ইউনিটও গঠন করেছিল সিঙ্গাপুর সরকার। জন্মহার বাড়াতে সরকারি উদ্যোগে পাত্র-পাত্রী খোঁজার সেবা চালুর ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে জাপানের টোকিওতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি পাত্র-পাত্রী খোঁজার সেবা চালু করা হয়েছিল।