সারাবিশ্ব
ভারতে ৫ বাংলাদেশি আটক, নিজেদের আওয়ামী লীগ কর্মী ও পুলিশ সদস্য দাবি
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি হিলস এলাকায় পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। শনিবার ও রবিবার টানা অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন নিজেদের আওয়ামী লীগ কর্মী এবং একজন নিজেকে বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল বলে দাবি করেছেন।
আটকদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তারের দৃশ্য ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় জনতা ও পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকের হাত বাঁধা অবস্থায়, কারও গায়ে ছেঁড়া গেঞ্জি, আবার কারও গায়ে কোনো জামাকাপড়ই নেই। তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার চিত্রও ভিডিওতে স্পষ্ট।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হিন্দিতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক যুবক বলছেন, “আমরা শেখ হাসিনার দল করতাম। অবৈধ সরকার এদেশে চলে এসেছে। তখন ওই আমাদের রাস্তা দেখিয়ে এদেশে নিয়ে এসেছে। আমাদের বাংলাদেশে আমাদের নিরাপত্তা...” এরপর উপস্থিত জনতার চিৎকার-চেঁচামেচির কারণে বাকিটুকু আর শোনা যায়নি।
ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যম ‘শিলং টাইমস’ ও ‘হাইল্যান্ড পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার মেঘালয়ের রংদাংগাই গ্রামে ২১ বছর বয়সী এক যুবকের ওপর হামলা ও অপহরণের চেষ্টা হয়। এ ঘটনার পর শনিবার ৪ জন এবং রোববার আরও একজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার যাদের আটক করা হয় তারা হলেন- জামালপুরের জাহাঙ্গীর আলম (২৫) ও মারুফুর রহমান, নারায়ণগঞ্জের সায়েন হোসেন এবং কুমিল্লার মাহফুজ রহমান। এর মধ্যে মারুফুর রহমান নিজেকে বাংলাদেশ পুলিশের একজন কনস্টেবল বলে দাবি করেছেন। রোববার গ্রেপ্তার হওয়া মোবারক মিয়া সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কলাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
মেঘালয় রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি হিলস জেলার পুলিশ সুপার বি. জিরওয়া জানান, গ্রামবাসীদের সহায়তায় রোববার সকালে খোঞ্জয়ের গিলাগোড়া এলাকা থেকে মোবারক মিয়াকে আটক করা হয়। তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ, অপহরণ ও হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
হাইল্যান্ড পোস্ট-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযানের সময় আটককৃত এক ব্যক্তির কাছ থেকে বাংলাদেশের পুলিশের পরিচয়পত্র, একটি হাতকড়া, পিস্তলের হোলস্টার, ম্যাগাজিন কভার, রেডিও সেট, কুঠার, তার কাটার যন্ত্র, মুখোশ, মোবাইল ফোন ও বাংলাদেশি টাকা জব্দ করেছে ভারতীয় পুলিশ।