সারাবিশ্ব
খামেনির পরিবারে প্রাণঘাতী হামলায় মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত হয়েছেন-এমন দাবি উঠে এসেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা রোববার এ তথ্য জানায়।
এদিকে ইরানের ভেতর থেকেই খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম। তেহরানভিত্তিক তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি আজ সকালে প্রচারিত এক ঘোষণায় জানায়, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন।” তাঁর মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে খামেনির স্মরণে সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার কথাও জানানো হয়। এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
আইআরআইবি আরও জানায়, খামেনি নির্ধারিত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিজ দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন—সেখানেই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে হামলার ধরন ও সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শোক প্রকাশ করে জানায়, “আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি। আত্মার পবিত্রতা, ঈমানের দৃঢ়তা, সৃজনশীল মানসিকতা এবং অহংকারীদের মুখোমুখি হওয়ার সাহসে তিনি ছিলেন অনন্য।”
সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, খামেনির মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই তথ্য নিশ্চিত করে তেহরানভিত্তিক রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনা জানায়, ইসরায়েলি ও মার্কিন সরকারের আক্রমণে ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ‘শহীদ’ হয়েছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে খামেনির নিহত হওয়ার কথা জানান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সকালে তেহরানে খামেনির কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তিনি নিহত হন। অপরদিকে বিবিসি জানায়, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর রোববার (১ মার্চ) থেকে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক কার্যকর হয়েছে।
তবে এসব তথ্যের স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক যাচাই এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি ও তথ্যযুদ্ধ চলমান রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।