সারাবিশ্ব
ভারতে জেন-জিদের ‘তেলাপোকা পার্টির’ আতঙ্কে ঘুম হারাম মোদির!
ভারতে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ এখন জাতীয় রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছে। বেকারত্বের ঊর্ধ্বগতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মে হতাশ যুবকদের সমর্থনে গড়ে ওঠা কাল্পনিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, যা ‘তেলাপোকা পার্টি’ নামেও পরিচিত, অল্প সময়েই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনটির অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে আলোচনা চলছে। এ অভাবনীয় উত্থান রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ঘটনার সূচনা মে মাসের মাঝামাঝি। ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি সূর্যকান্ত এক শুনানিতে বেকার যুবকদের ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন—এমন অভিযোগ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পরে তিনি দাবি করেন তার বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ততক্ষণে তরুণদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
এই ক্ষোভকে প্রতীকে রূপ দেন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে। ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নামে একটি ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। সেখানে বেকার ও হতাশ তরুণদের পক্ষে কণ্ঠস্বর তোলার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং দ্রুত এটি ভাইরাল হয়ে পড়ে।
অনলাইনের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাস্তবেও প্রভাব ফেলতে শুরু করে। গত শনিবার (৬ জুন) দিল্লির জন্তর মন্তরে বিশাল যুব সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা খাতের অনিয়মের প্রতিবাদে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি ওঠে। অংশগ্রহণকারীদের অনেকে তেলাপোকার মুখোশ পরে এবং ‘আমিই তেলাপোকা’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে উপস্থিত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরকারের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। ভারতের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে, অথচ নীতিনির্ধারকদের গড় বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বয়সও ৭৫ হওয়ায় এই প্রজন্মগত ব্যবধান রাজনীতির সঙ্গে তরুণদের দূরত্ব বাড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনীতির আকার বড় হলেও উচ্চশিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। ফলে ‘তেলাপোকা’ প্রতীকটি এখন বৃহত্তর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়ে উঠেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার দিকেও দৃষ্টি দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ ও নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক তরুণদের আন্দোলন দ্রুত বিস্তার লাভ করেছিল—এই উদাহরণ টেনে অনেকে বলছেন, ভারতে এই পরিস্থিতি অবহেলার সুযোগ নেই।
প্রথমদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি বিষয়টিকে ‘সামাজিক মাধ্যমে তৈরি কৌতুক’ হিসেবে দেখলেও, দিল্লির রাজপথে তরুণদের সক্রিয় উপস্থিতি এবং অনলাইনে ব্যাপক সমর্থন নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।