আইন আদালত

সংশোধিত আইনের প্রথম রায়ে অব্যাহতি পেল আলোচিত কিশোর ফাইয়াজ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫, ১২:৪১ পিএম

সংশোধিত আইনের প্রথম রায়ে অব্যাহতি পেল আলোচিত কিশোর ফাইয়াজ
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কনস্টেবল গিয়াস উদ্দিন হত্যা মামলায় কিশোর হাসনাতুল ইসলাম ফাইয়াজকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (ক) ধারায় দাখিল করা অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন গ্রহণ করে আদালত এই অব্যাহতির আদেশ দেন।

গত ১৫ জুলাই ঢাকার মহানগর হাকিম জি এম ফারহান ইশতিয়াক এই আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাঈন উদ্দিন চৌধুরী।

প্রসঙ্গত, ১০ জুলাই জারি হওয়া অধ্যাদেশের মাধ্যমে ফৌজদারি কার্যবিধিতে ১৭৩ (ক) ধারা যুক্ত হয়। এই ধারায় তদন্ত চলাকালে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই আইন সংশোধনের পর পাঁচ দিনের মাথায় প্রথম এই আইনের সুবিধা পেলেন ফাইয়াজ।

পুলিশের গোয়েন্দা (ওয়ারী) বিভাগের তদন্ত কর্মকর্তা মোল্লা মো. খালিদ হোসেন ১৩ জুলাই আদালতে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানে ফাইয়াজের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। আদালত ১৫ জুলাই সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করে ফাইয়াজকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

ডিএমপি কর্মকর্তারা বলছেন, এই নজিরবিহীন আইনি পদক্ষেপের ফলে নিরপরাধদের হয়রানি কমবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯ জুলাই রাতে গণভবনে ডিউটিতে যাওয়ার পথে রায়েরবাগ ফুট ওভারব্রিজের কাছে পুলিশ সদস্য গিয়াস উদ্দিনকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। ২৪ জুলাই নিহতের ভগ্নিপতি ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।

ফাইয়াজ এই মামলার ১৬ নম্বর আসামি ছিলেন। তার জন্ম ২০০৭ সালের ১৯ এপ্রিল, এবং ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ঢাকার শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পায়। তার বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় রিমান্ড ও গ্রেফতার নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা হয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয় এবং পরে জামিনে মুক্তি পান।

ফাইয়াজের পরিবার দাবি করে, তাকে সাদা পোশাকধারীরা বাসা থেকে নিয়ে যায়। পরে হাত বাঁধা অবস্থায় আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়া হয়, যা ছিল অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে আইনি আচরণের পরিপন্থি। শেষ পর্যন্ত আদালতের অব্যাহতির মধ্য দিয়ে ফাইয়াজ সেই মামলার দায় থেকে মুক্তি পেল।