আইন আদালত

প্রিজনভ্যানে অঝোরে কাঁদলেন পলক, একজন বললেন- ‘ভাই কাইন্দেন না’


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫, ০৬:৪০ পিএম

প্রিজনভ্যানে অঝোরে কাঁদলেন পলক, একজন বললেন- ‘ভাই কাইন্দেন না’
প্রিজনভ্যানে অঝোরে কাঁদলেন পলক। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্র জনতার আন্দোলনে সরকার পতনের পর দুর্নীতির মামলায় বন্দি সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। আজ বুধবার সকালে তাকে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে আনা হয় ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে।

হাতকড়া পরা, মাথায় হেলমেট আর বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট—একটি সময় যে মানুষ তরুণদের প্রযুক্তি স্বপ্ন দেখাতেন, সেই পলককে আজ দেখা গেল একেবারে ভিন্ন ভূমিকায়। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে হাজতখানা থেকে আদালত, আবার সেখান থেকে প্রিজনভ্যানে।

আদালতে আজ দুদকের মানি লন্ডারিং মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ছিল। কিন্তু প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় শুনানি স্থগিত হয়। শুনানি শেষে তাকে আবার নেওয়া হয় হাজতখানায়। সেখান থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রিজনভ্যানে তোলা হয়।

এই সময় আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিলেন নাটোর থেকে আসা কয়েকজন সমর্থক। পরিচিত মুখগুলো দেখে হালকা হেসে ওঠেন পলক। কেউ কেউ বলেন, “আপনার জন্য দোয়া করি ভাই।” পলকও শান্ত গলায় বলেন, “আমার জন্য দোয়া করবেন। সবাই সাবধানে থাকবেন।”

তবে প্রিজনভ্যানে ওঠার পর একেবারে ভিন্ন এক মুহূর্ত। ভ্যানের ফোকর দিয়ে বাইরে তাকিয়ে পলক চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। কাঁদতে শুরু করেন তিনি। এ দৃশ্য দেখে এক গ্রাম্যভক্ত বলেই ফেললেন—“পলক ভাই, কাইন্দেন না ভাই।”

কেউ কেউ আবার বললেন, “ভাই, কোনো টেনশন কইরেন না।” পলক তখনও বারবার বলছিলেন, “সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”

এই আবেগঘন মুহূর্তের কিছু পরেই ভ্যানটি রওনা দেয় কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে। প্রিজনভ্যানের ভেতরে তখন চুপচাপ বসে ছিলেন জুনায়েদ আহমেদ পলক।

পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন জানান, পলকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭০টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রিমান্ড হয়েছে ৬২ দিন। তার দাবি, সবগুলোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা।