আইন আদালত
সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আয়োজনের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে ২১, ২২, ২৩, ২৮, ২৯ অক্টোবর এবং ২, ৪, ৫, ৬ ও ১১ নভেম্বর—মোট ১০ দিনে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে অংশ নেন— ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজনের পক্ষে ড. শরীফ ভূঁইয়া, ইন্টারভেনার হিসেবে ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ব্যারিস্টার শিশির মনির, মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে আইনজীবী এস এম শাহরিয়ার এবং বিএনপির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ সংশোধনী পাস করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। ১৯৯৮ সালে এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিন আইনজীবী রিট দায়ের করেন।
২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বৈধ ঘোষণা করে রিট খারিজ করে দেয়। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়।
২০০৫ সালে আপিল শুনানির ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।
পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনও পৃথকভাবে রিভিউ আবেদন করেন।
এ সকল আবেদনের ভিত্তিতেই আজ রায় ঘোষণা করল আপিল বিভাগ।