লাইফস্টাইল
সম্পর্কে থেকেও একাকীত্ব: শহুরে জীবনের এক অদৃশ্য মহামারি
একই ছাদের নিচে বসবাস, একই টেবিলে খাবার খাওয়া, তবুও মাঝখানে এক মাইলের দূরত্ব। আধুনিক নগর জীবনে সম্পর্কের এক অদ্ভুত সংকটের নাম ‘সম্পর্কে থেকেও একাকীত্ব’।
বাইরের চাকচিক্য আর যান্ত্রিক ব্যস্ততার ভিড়ে দম্পতিদের মধ্যে বাড়ছে মানসিক দূরত্ব, যা শহুরে জীবনের নতুন এক সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একাকীত্ব মানে কেবল একা থাকা নয়। বরং কারো পাশে থেকেও যখন মনের কথাগুলো পৌঁছায় না বা অনুভূতির আদান-প্রদান থমকে যায়, তখনই তৈরি হয় এই নীরব শূন্যতা।
শহুরে জীবনে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা। দিনের শেষে ঘরে ফিরে দম্পতিরা একে অপরের সাথে কথা বলার চেয়ে স্মার্টফোনের স্ক্রল করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। একে বলা হচ্ছে ‘ফাবিং’পাশে থাকা মানুষটিকে উপেক্ষা করে ফোনে মগ্ন থাকা। এছাড়া দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, ক্যারিয়ারের ইঁদুর দৌড় এবং তীব্র প্রতিযোগিতামূলক জীবন মানুষের সহনশীলতা ও শোনার ধৈর্য কমিয়ে দিচ্ছে।
গবেষণা বলছে, দীর্ঘস্থায়ী এই মানসিক দূরত্ব মানুষের মধ্যে বিষণ্ণতা, অনিদ্রা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব তৈরি করে। সম্পর্কের এই শীতলতা অনেক সময় বিচ্ছেদ কিংবা পরকীয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির দিকেও ঠেলে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ‘স্ক্রিন-ফ্রি’ সময় কাটানো উচিত। যেখানে কোনো ফোন বা গ্যাজেট থাকবে না। একে অপরের ছোট ছোট অর্জনকে গুরুত্ব দেওয়া এবং গুণগত সময় (Quality Time) কাটানো এই দেয়াল ভাঙতে সাহায্য করতে পারে। মনে রাখতে হবে, সম্পর্ক সচল রাখতে কেবল উপস্থিতি নয়, প্রয়োজন সক্রিয় অংশগ্রহণ।