লাইফস্টাইল

স্বাস্থ্যের জন্য এক অমূল্য মৌসুমি উপহার বরই, যে কারণে খাবেন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

স্বাস্থ্যের জন্য এক অমূল্য মৌসুমি উপহার বরই, যে কারণে খাবেন
ছবি: সংগৃহীত

শীতের আমেজ শেষ হতে না হতেই বাজারে রাজত্ব শুরু করেছে টক-মিষ্টি স্বাদের গোলগাল ফল 'বরই' বা কুল। রাস্তার মোড়ে মোড়ে এখন কাঁচাপাকা বরইয়ের মৌ মৌ ঘ্রাণ। দামে সস্তা আর সহজলভ্য এই ফলটিকে অনেকে কেবল মুখরোচক মনে করলেও, পুষ্টিবিদরা একে বলছেন ‘মৌসুমি সুপারফুড’।

boroi.jpg
বরইতে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা আমাদের দেহের কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তা করে।

এছাড়াও বরইতে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা আমাদের দেহের কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তা করে। এতে আছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফাইবার, আয়রন, পটাসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই সব উপাদান একসাথে শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তা করে এবং আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বহুমুখী সুবিধা দেয়।

প্রাচীন চীনা চিকিৎসা থেকে শুরু করে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা পর্যন্ত বরইকে একাধিক রোগ প্রতিরোধকারী এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষাকারী ফল হিসেবে মান্য করা হয়। চলুন জেনে নেই বরই কীভাবে আমাদের শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক, এবং কেন প্রতিদিন এটি খাওয়া উচিত:

boroi 3.jpg
 ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফাইবার, আয়রন, পটাসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর উৎস।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: বরইতে থাকা প্রচুর ভিটামিন সি ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। এটি ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে মৌসুমী সর্দি-কাশি ও সংক্রমণ প্রতিরোধে বরই খুবই কার্যকর।

রক্তপরিশোধক ও রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ: বরইকে প্রাচীনকাল থেকেই রক্ত বিশুদ্ধকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে থাকা আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদন বাড়ায়, ফলে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতার সমস্যা কমে। এছাড়া পটাসিয়াম, জিঙ্ক ও ফসফরাস রক্ত সঞ্চালনকে সমানভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।

boroi 2.jpg
মৌসুমি সুপারফুড।

রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: বরইয়ে থাকা পটাসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই ফলের উপাদান রক্তে চিনির মাত্রা দ্রুত বাড়তে বাধা দিতে পারে। ফলে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও সহায়ক।

হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যে সহায়তা: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন অ্যান্থোসায়ানিন ও রেসভারাট্রল হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এটি রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে কার্যকর।

boroi 4.jpg
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ: বরইয়ের ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে সুগম করে। নিয়মিত বরই খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং অন্ত্র স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এটি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ব্যালান্স রাখতে সাহায্য করে।

ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বাড়ায়: বরইয়ে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়, যা ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখে। এছাড়া এটি ত্বকের বয়সের ছাপ কমাতে, ব্রণ প্রতিরোধ করতে এবং চুলকে মজবুত করতে সহায়ক।

হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য উন্নত করে: বরইতে থাকা ভিটামিন কে, ক্যালসিয়াম ও আয়রন হাড়কে মজবুত করে। নিয়মিত বরই খেলে হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে, অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি কমে।

boroi 6.jpg
মন ও শরীরকে শিথিল করে।

মানসিক স্বাস্থ্যে সহায়ক: চীনের প্রাচীন চিকিৎসা অনুসারে বরই স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড, স্যাপোনিন এবং পলিস্যাকারাইড মন ও শরীরকে শিথিল করে। নিয়মিত বরই খেলে ঘুম ভালো হয়, স্ট্রেস কমে এবং উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে: বরই হরমোনের সঠিক মাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক। এটি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় সমানভাবে কার্যকর।

পুষ্টিবিদদের মতে, বরই খালি পেটে না খেয়ে দুপুরে বা বিকেলে খাওয়া ভালো। আর কিডনির সমস্যায় যারা ভুগছেন, তারা পটাশিয়ামের আধিক্যের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এটি গ্রহণ করবেন। তাই সুস্থ থাকতে আর ঋতু পরিবর্তনের অসুখ থেকে বাঁচতে আজই বাজার থেকে নিয়ে আসুন এক ঠোঙা তাজা বরই।