গণমাধ্যম
স্বর্ণময়ীর আত্মহত্যা: সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি ২৪৩ নাগরিকের
অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ঢাকা স্ট্রিম’ এর কর্মী স্বর্ণময়ী বিশ্বাসের মৃত্যু ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোরগোলের মধ্যে ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্তসহ তিনটি দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ২৪৩ জন নাগরিক।
বিবৃতিদাতাদের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা এবং কবি ও সাংবাদিক গিরীশ গৈরিক আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে এ বিবৃতি পাঠান।
এতে বলা হয়, 'ঢাকা স্ট্রিমের বাংলা কনটেন্ট এডিটর আলতাফ শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, অশোভন আচরণ ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ এনে প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ বিভাগে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন স্বর্ণময়ী বিশ্বাসসহ তার ২৬ জন সহকর্মী। অভিযোগকারীদের মধ্যে ৯ জন নারী সাংবাদিক ছিলেন।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, '২৬ জন সংবাদকর্মীর লিখিত ও প্রমাণসাপেক্ষ অভিযোগের পরও ঢাকা স্ট্রিমের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি। নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনায় অভিযুক্তকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা করেনি।'
বিবৃতিদাতারা মনে করেন, 'এ ঘটনায় সংবাদমাধ্যমটির সম্পাদক-প্রকাশক এবং মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান তাদের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায় এড়াতে পারেন না। তারা উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও অভিযোগ তদন্তের প্রক্রিয়া না মানায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।'
সহকর্মীদের ভাষ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'বিচার না পেয়ে স্বর্ণময়ী বিশ্বাস মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, হতাশা ও বিষণ্নতায় নিমজ্জিত হয়েছিলেন।'
বিবৃতিতে তিনটি 'স্পষ্ট দাবি' জানানো হয়েছে- যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত আলতাফ শাহনেওয়াজসহ সংশ্লিষ্টদের অবিলম্বে আইনের মুখোমুখি করতে হবে, ঢাকা স্ট্রিম কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও অবহেলা তদন্তের আওতায় আনতে হবে এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিবৃতিতে সম্মতি দিয়েছেন- কবি নির্মলেন্দু গুণ, আইনজীবী জেড আই খান পান্না, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, শিক্ষাবিদ আব্দুল বায়েস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরীন, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, কবি গুলতেকিন খান, কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহান, অভিনেতা কচি খন্দকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা দীপংকর দীপন, অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন, কথাসাহিত্যিক ইসহাক খান, আইনজীবী মানজুর আল মতিন, কলামিস্ট জিয়াউদ্দীন আহমেদ, গবেষক সুজাত মনসুর, কথাশিল্পী পারভেজ হোসেন, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফী রতন, জাবি অধ্যাপক অধ্যাপক আবু দায়েন, ড. মাসউদ ইমান মান্নু, অধ্যাপক মাহমুদুল সুমন, ড. কাসফিয়া নাহরিন, অধ্যাপক আইনুন নাহার, অধ্যাপক মাহমুদা আকন্দ, ঢাবি অধ্যাপক ড. রফিক শাহরিয়ার, ড. মো. আবদুর রহিম, সহযোগী অধ্যাপক ড. নীলিমা আখতার, কথাসাহিত্যিক অদিতি ফাল্গুনী, অধ্যাপক কাজী ফরিদ, সহযোগী অধ্যাপক উম্মে ফারহানা প্রমুখ।