জাতীয়

আইন-শৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জ থাকলেও নির্বাচন সম্ভব: সিইসি নাসির উদ্দিন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৫, ০২:২৭ পিএম

আইন-শৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জ থাকলেও নির্বাচন সম্ভব: সিইসি নাসির উদ্দিন
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে— এই প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সন্দেহ ও সংশয়ের পরিবেশ। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ও সম্ভাবনা নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সিইসি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান, নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিকে প্রতীক না দেওয়ার কারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।

সিইসির ভাষ্য মতে, নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে তিনি নিজেও নিশ্চিত নন। “ইটস ভেরি ডিফিকাল্ট ফর মি টু রেসপন্ড, বিকজ আই মাইসেল্ফ ওন্ট নো এক্স্যাক্ট ডেট”— বলেন তিনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ভোট এপ্রিলের প্রথমার্ধে হতে পারে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও ইসিকে কোন নির্দিষ্ট তারিখ জানায়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, “আমরা ধরে নিচ্ছি, বর্তমানে যে সময়সীমা আলোচনায় আছে— তা হলো ফেব্রুয়ারির শুরুতে, রমজানের আগেই, অথবা এপ্রিলের প্রথম দিকে।” তিনি আরো জানান, নির্বাচন নিয়ে সরকার থেকে কোনো দিকনির্দেশনা বা পরামর্শ পাননি তারা। ইসি একেবারে স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে তারা প্রথম থেকেই ডিসেম্বরকে লক্ষ্য করে প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। “প্রধান উপদেষ্টা গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেছিলেন— নির্বাচন ডিসেম্বর অথবা জুনে হতে পারে। সেই বক্তব্য শোনার পর থেকেই আমরা প্রস্তুতি বাড়িয়ে দিয়েছি,” বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “তফসিল ঘোষণার অন্তত দুই মাস আগে থেকেই আমাদের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে হয়। কারণ নমিনেশন জমা, যাচাই-বাছাই, প্রতীক বরাদ্দসহ নানা কাজ সময়সাপেক্ষ। এজন্য ডিসেম্বরের নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে আমরা ব্যাক ক্যালকুলেশন করে কাজ শুরু করেছি।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি ছিল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। তবে নির্বাচনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এসেছে। তিনি আমাদের প্রস্তুতির অবস্থা জানতে চেয়েছেন। আমি তাকে বিস্তারিত জানিয়েছি আমাদের অগ্রগতি ও পরিকল্পনার বিষয়ে।”

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে দাবি উঠেছে যে, বর্তমানে দেশে নির্বাচন করার মতো পরিবেশ নেই। এ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “রাজনীতিবিদদের বক্তব্যের ভিত্তিতে আমরা চলি না। কেউ নির্বাচনের কথা বলছে, আবার কেউ বলছে সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নয়— এসব রাজনৈতিক বক্তব্য। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, তবে আমি মনে করি, নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “গত বছরের আগস্টের তুলনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নত হয়েছে। নির্বাচনের সময় পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক থাকবে বলে আমরা আশা করছি। প্রতিটি রাজনৈতিক দল সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, কেউ বলে না যে আগের মতো নির্বাচন হোক।”

তবে মব ভায়োলেন্স ও দলবদ্ধ সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের মাথায় আছে। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী— যেমন পুলিশ, আর্মি, বিজিবি— কিভাবে মোতায়েন হবে সে বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। আমাদের প্রস্তুতিও সেই অনুযায়ী চলছে।”

নির্বাচনে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব কি না— জানতে চাইলে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “আমি মনে করি, নির্বাচন হবে ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনো বাধা হবে না। জনগণ যদি আমাদের পাশে থাকে, তাহলে কোনো মব আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।”

সিইসির এ বক্তব্যে স্পষ্ট— চ্যালেঞ্জ থাকলেও নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণরূপে চলছে এবং কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে, সরকারের ওপর নির্ভর না করেই। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা— জাতীয় নির্বাচন ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হবে, সেটাই দেখার বিষয়।