জাতীয়

রাষ্ট্রের গোপন দলিল ফাঁস ও আদেশ অমান্যের অভিযোগে এনবিআরের ১৪ কর্মকর্তা বরখাস্ত


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫, ০৯:২৯ পিএম

রাষ্ট্রের গোপন দলিল ফাঁস ও আদেশ অমান্যের অভিযোগে এনবিআরের ১৪ কর্মকর্তা বরখাস্ত
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ফাঁসের অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিতীয় সচিব (উপ-কর কমিশনার) মুকিতুল হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। বুধবার (১৬ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করেন আইআরডি সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মুকিতুল হাসান রাষ্ট্রের অতি গোপনীয় নথি প্রকাশ করে সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা পরিপন্থী আচরণ করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী তাকে এনবিআরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।

এ বিষয়ে সরকারের সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেন, “কোনো সরকারি কর্মকর্তা সরকারের অনুমোদন ছাড়া গোপন নথি প্রকাশ করতে পারেন না। যদি কোনো আপত্তি থাকে, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। একজন সরকারি কর্মকর্তা সাধারণ নাগরিক নন, তাই সরকারি বিধি মানতেই হবে।”

এদিকে এর আগের দিন, মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে এনবিআরের আরও ১৩ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এই বরখাস্তের ঘোষণা দেয়। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— 

১. মির্জা আশিক রানা, অতিরিক্ত কর কমিশনার, কর অঞ্চল-৮, ঢাকা

২. মো. শাহাদাত জামিল, উপ-কমিশনার ও দ্বিতীয় সচিব, এনবিআর

৩. হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, মূসক নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তর (তিনি এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি ছিলেন)

৪. সিফাত-ই-মরিয়ম, অতিরিক্ত কমিশনার ও উপপ্রকল্প পরিচালক, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো প্রকল্প

৫. সবুজ মিয়া, রাজস্ব কর্মকর্তা, ঢাকা উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট

৬. শফিউল বশর, রাজস্ব কর্মকর্তা, খুলনা ভ্যাট কমিশনারেট

এছাড়াও কর বিভাগের আরও আট কর্মকর্তা বরখাস্ত হন। তারা হলেন—

৭. মাসুমা খাতুন, যুগ্ম কর কমিশনার, কর অঞ্চল-২

৮. মুরাদ আহমদ, কর অঞ্চল-১৫

৯. মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন, কুষ্টিয়া কর অঞ্চল

১০. মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, নোয়াখালী কর অঞ্চল

১১. আশরাফুল আলম প্রধান, কক্সবাজার কর অঞ্চল

১২. শিহাবুল ইসলাম, উপ-কর কমিশনার

১৩. নুসরাত জাহান শমী, উপ-কর কমিশনার, রংপুর

১৪. ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল, উপ-কর কমিশনার, কুমিল্লা

সূত্র জানায়, এই কর্মকর্তারা এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যদিও বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার মাধ্যমে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুসারে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং সবাই খোরপোষ ভাতা পাওয়ার অধিকারী থাকবেন।

এর আগে এনবিআরের আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২ জুলাই কর বিভাগের সদস্য মো. আলমগীর হোসেন, মূসক নীতির সদস্য ড. মো. আবদুর রউফ, শুল্কনীতির সদস্য হোসেন আহমদ এবং বরিশাল কর কমিশনার মো. শব্বির আহমদকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। ১ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. জাকির হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে এনবিআরে ওএসডি হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও গোপনীয়তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর অবস্থান এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আরও স্পষ্ট হলো।