জাতীয়

নিহত বেড়ে ৩২, অগ্নিদগ্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী এখনো হাসপাতালে


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫, ০৮:৫৮ এএম

নিহত বেড়ে ৩২, অগ্নিদগ্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী এখনো হাসপাতালে
ছবি: সংগৃহীত

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ভয়াবহ পরিণতি দেখা দিয়েছে। একের পর এক মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিতে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। এর মধ্যে অধিকাংশই কোমলমতি শিক্ষার্থী। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬৫ জন, যাদের মধ্যে অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ৯ বছর বয়সী শিশু নাফি। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ৩১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২-এ। অপরদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, ২৭ জন নিহতের মধ্যে ২৩ জনই শিশু। অনেক মরদেহ এমনভাবে দগ্ধ হয়েছে যে এখনো অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।

এ পর্যন্ত ২০টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ৬টি রাখা হয়েছে সিএমএইচ মর্গে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিমানটির বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম। তার মরদেহ ইতোমধ্যেই রাজশাহীতে দাফন করা হয়েছে।

 

আহতদের তালিকা (আইএসপিআর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী):

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট: ৪৬ জন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ৩ জন

কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল: ৮ জন

সিএমএইচ: ২৮ জন

লুবনা জেনারেল হাসপাতাল: ১৩ জন

উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল: ৬০ জন

উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল: ১ জন

শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ১ জন

ইউনাইটেড হাসপাতাল: ২ জন

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল: ৩ জন

 

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি রোগীদের মধ্যে দুজনকে কেবিনে স্থানান্তর করা হলেও এইচডিইউতে থাকা অন্তত ১০ জনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। এছাড়া আরও ৩০ জন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

চিকিৎসায় দেশের অভিজ্ঞ প্লাস্টিক সার্জন, বার্ন বিশেষজ্ঞ ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা নিয়োজিত রয়েছেন। সরকার জানিয়েছে, প্রয়োজনে সিঙ্গাপুর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনার ব্যবস্থাও করা হবে।

এ দুর্ঘটনায় শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, পুরো দেশ শোকে স্তব্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হাসপাতাল ও স্কুল প্রাঙ্গণে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। অনেক পরিবার হারিয়েছে তাদের একাধিক সন্তান। নিরাপত্তা ও দায়িত্বহীনতার প্রশ্নে নতুন করে জনমনে ক্ষোভও দেখা দিয়েছে।