জাতীয়
নতুন সরকারের জন্য ২৮০টি গাড়ি কেনার অনুমোদন, মন্ত্রীদের জন্য থাকছে ৬০টি পাজেরো
নতুন সরকারের মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) জন্য মোট ২৮০টি নতুন গাড়ি কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ৬০টি হবে মন্ত্রীদের জন্য মিতসুবিশি পাজেরো (QX-2427 CC মডেল), ১৯৫টি জিপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য এবং ২৫টি মাইক্রোবাস জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জন্য। প্রস্তাবিত এই গাড়িগুলো কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ৪৪৪ কোটি ৮৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কেনা গাড়ি ব্যবহার করছেন। এসব গাড়ি এখন প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায় এবং বারবার মেরামত করতে হয়, যা একদিকে ব্যয়বহুল, অন্যদিকে সময়সাপেক্ষ। পুরোনো গাড়ি দিয়ে নির্বাচনি এলাকা সফর, উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই নতুন গাড়ি কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
গাড়ি সরাসরি প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে ক্রয় করা হবে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর। ক্রয় সম্পন্ন হওয়ার পর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির অনুমোদন নিয়ে গাড়িগুলো বিতরণ করা হবে।
প্রতিটি পাজেরোর দাম ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, প্রতিটি ইউএনও জিপের দাম ১ কোটি ৬৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জন্য প্রতিটি মাইক্রোবাসের দাম হবে ৫২ লাখ টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, গাড়ি কেনার অনুমোদন দেওয়া হলেও এর সঙ্গে বেশ কিছু শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। যেমন—নতুন কেনা জিপগুলো প্রাধিকারভুক্ত হবে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি ব্যবহারের আগে বিআরটিএর পরিদর্শক দল যাচাই করবে। এছাড়া ক্রয়ে অবশ্যই পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০০৮ মানতে হবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “পরবর্তী সরকার বা মন্ত্রীরা কোন গাড়ি ব্যবহার করবেন, তা কেন বর্তমান সরকার নির্ধারণ করছে? এটি অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ নয়। এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা উচিত।”
অন্যদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোখলেস উর রহমান দাবি করেন, “বর্তমান মন্ত্রীদের গাড়িগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। তাই নতুন গাড়ি কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে সরকারি ব্যয় সংকোচনের জন্য যানবাহন কেনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু এবার সেই পরিপত্র উপেক্ষা করেই গাড়ি ক্রয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।