জাতীয়
গ্রেপ্তার মোটরসাইকেল মালিক সম্পর্কে যা জানা গেল
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক মো. আব্দুল হান্নানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রোববার সকালে র্যাবের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। ঘটনার পর সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে পল্টন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আব্দুল হান্নান মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকার বাসিন্দা। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, তার স্থায়ী ঠিকানা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা পশ্চিমপাড়া। তার বাবার নাম মো. আবুল কাশেম এবং মায়ের নাম মোসা. ফুরকোন। পেশাগতভাবে তিনি নিজেকে শ্রমিক বলে পরিচয় দিলেও তার নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী পেশার তথ্য পাওয়া যায়নি।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, হামলার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করা হয়। পরে মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর (ঢাকা মেট্রো-ল-৫৪-৬৩৭৫) যাচাই করে বিআরটিএর মাধ্যমে মালিক হিসেবে মো. আব্দুল হান্নানের নাম পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল হান্নান বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে র্যাব। একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, মোটরসাইকেলটি তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন, আবার কখনো বলেন সেটি গ্যারেজে ছিল। তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। এ কারণে তার বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
র্যাব আরও জানায়, হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সালের সঙ্গে পরিচয়ের বিষয়টি স্বীকার করলেও দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ নেই বলে দাবি করেছেন হান্নান। তবে র্যাব কর্মকর্তাদের মতে, ফয়সাল তার পূর্বপরিচিত ও ঘনিষ্ঠজন। হান্নানকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ফয়সালসহ হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে নির্বাচনি প্রচারণার সময় রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে একই রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।