জাতীয়

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৪৫ পিএম

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার বাংলাদেশ হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলবের দুই দিন পর নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

বার্তা সংস্থা এএনআই-এর বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এ তলব এমন এক সময় ঘটল, যখন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ভারতকে ঘিরে একটি মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হলে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সূত্রে জানান, ঠিক কী কারণে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে তলব করা হয়েছে-সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্যে দিল্লি অসন্তুষ্ট হয়েছে।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানাতে হাইকমিশনারকে তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় মিশনের নিরাপত্তা ঘিরে ‘কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠীর’ তৎপরতার বিষয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘চরমপন্থী মহল’ যে বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে, ভারত তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে। দুঃখজনকভাবে, অন্তর্বর্তী সরকার এখনো এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করেনি কিংবা ভারতের সঙ্গে অর্থবহ তথ্য-প্রমাণ বিনিময় করেনি বলেও উল্লেখ করা হয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ, যার ভিত্তি মুক্তিযুদ্ধকালীন সংগ্রাম। ভারত বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে এবং অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতার আলোকে বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন মিশন ও পোস্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

এর আগে গত রোববার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তখন জানানো হয়, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাচেষ্টার সন্দেহভাজনরা যাতে ভারতে পালাতে না পারে-সে বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে বিচারের স্বার্থে দ্রুত প্রত্যর্পণের আহ্বান জানানো হয়।

ওই দিনই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ভারতের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।