জাতীয়
ময়নাতদন্তের জন্য হাদির মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে
ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মরদেহটি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পৌঁছানো হয়। এ সময় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। হাদির পরিবারের সদস্য, সহযোদ্ধা ও সহকর্মীরাও মরদেহের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ময়নাতদন্ত শেষে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাদির মরদেহ গোসল করানো হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ নেওয়া হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। সেখানে দুপুর ২টায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জানাজাকে ঘিরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে অংশগ্রহণকারীদের কোনো ধরনের ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী সঙ্গে না আনতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় ড্রোন উড়ানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
এদিকে, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে আজ সারাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সামনের সারির নেতা। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ছিলেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরিবারের সিদ্ধান্তে পরবর্তীতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে গত ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। শুক্রবার তার মরদেহ ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়।