জাতীয়
মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়াল সরকার
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা বৃদ্ধি ও উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাসিক সম্মানি ভাতা চালু করা হবে। পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিজিএফ কার্যক্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন, যা আগে ছিল ৬৫০ টাকা। এছাড়া ৯০ বছরোর্ধ্ব ২ লাখ ৫ হাজার ব্যক্তি মাসিক ১ হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন।
একই মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কার্যক্রমে মোট ২৯ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার জন মাসিক ৭০০ টাকা এবং ৯০ বছরোর্ধ্ব ২৫ হাজার নারী মাসিক ১ হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন।
প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমেও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসিক ৯০০ টাকা এবং ১৮ হাজার ১০০ জন মাসিক ১ হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির হার বাড়িয়ে প্রাথমিক স্তরে ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১ হাজার ১০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার বাড়িয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় মাসিক ভাতা ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তিপ্রাপ্ত সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার ৩৩৮ জন করা হয়েছে এবং ৫ হাজার ৪৯০ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের সহায়তা কর্মসূচিতে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোক, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বাড়িয়ে ৬৫ হাজার করা হয়েছে। এককালীন চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণও ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বাড়িয়ে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় একজন মা মাসিক ৮৫০ টাকা ভাতা পাবেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ বাড়িয়ে ৬০ লাখ করা হয়েছে। এর আওতায় প্রতি পরিবার মাসে ৩০ কেজি চাল ১৫ টাকা কেজি দরে ছয় মাস পর্যন্ত পাবে।
এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৫ লাখ জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।