জাতীয়

ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদের সম্মানী কার্যক্রম শুরু শনিবার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদের সম্মানী কার্যক্রম শুরু শনিবার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদানের পরীক্ষামূলক কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, প্রাথমিকভাবে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকরাও সম্মানী পাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাবিউল্লাহ জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে।

এছাড়া প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে। এর মধ্যে পুরোহিত ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। প্রতিটি বৌদ্ধবিহারের জন্যও ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে—যেখান থেকে বিহার অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা। একইভাবে প্রতিটি গির্জার জন্য ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে, যার মধ্যে পালক বা যাজক পাবেন ৫ হাজার এবং সহকারী পালক বা যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা।

ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে মসজিদে কর্মরতদের বছরে দুই ঈদ—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ১ হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে। অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে সংশ্লিষ্টদের ২ হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে। তবে যেসব মসজিদ সরকারি কিংবা দেশি-বিদেশি সংস্থার অনুদান পায়, সেগুলো এই সুবিধার আওতায় থাকবে না।

সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে এ কর্মসূচি শুরু হলেও আগামী চার অর্থবছরে ধাপে ধাপে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই সম্মানীর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে জানা গেছে। আর দেশের সব মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার বা প্যাগোডা এবং গির্জাকে অন্তর্ভুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হলে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

সরকার চার ধাপে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।