জাতীয়

সরকারি চাকরিতে সরাসরি বরখাস্তের বিধান রেখে সংসদে বিল পাস


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

সরকারি চাকরিতে সরাসরি বরখাস্তের বিধান রেখে সংসদে বিল পাস
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংসদে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তাদের বৈধ আদেশ অমান্য করা বা সমবেতভাবে কাজে অনুপস্থিত থাকা সহ অন্যান্য অসদাচরণকে ‘সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়।

নতুন ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী যদি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করেন, নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাধা দেন, অন্য কর্মচারীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্মে অনুপস্থিত থাকেন বা অন্যকে কর্তব্য পালনে বাধা দেন, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এই ধরনের অসদাচরণের জন্য তিনটি প্রধান দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে:

১. নিম্নপদ বা বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ,
২. বাধ্যতামূলক অবসর, এবং
৩. চাকরি থেকে সরাসরি বরখাস্ত।

আইন অনুসারে তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। অভিযোগ প্রাপ্ত ৭ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযুক্তকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে। প্রাথমিক অভিযোগ থাকলে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং কমিটিকে ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে, বিশেষ প্রয়োজনে আরও ৭ দিন বাড়ানো যাবে। তদন্ত শেষ না হলে কমিটির সদস্যদের অদক্ষতা হিসেবে গণ্য করা হবে।

বিলে আরও বলা হয়েছে, ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযুক্ত কর্মকর্তা আপিল করতে পারবেন, তবে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিল করা যাবে না; কেবল পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে।

আইনের মূল লক্ষ্য সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, আনুগত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং কর্মস্থলে বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করা। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালে জারি পূর্ববর্তী অধ্যাদেশ দুটি স্থায়ী আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা হলো।