জাতীয়

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নতুন বিমানঘাঁটি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নতুন বিমানঘাঁটি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সেখানে নতুন বিমানঘাঁটি স্থাপন এবং পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য একটি ফ্লাইং একাডেমি গড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বগুড়া এয়ারফিল্ড ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বগুড়ায় উত্তরাঞ্চলের প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে কার্গো পরিবহন ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে স্থানীয় কৃষিপণ্য ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করা যায়।

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বিমানবন্দরের জন্য ১০,৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু করা হবে। পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের বাজারমূল্যের তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বলেন, বগুড়ার কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এখানে একটি আধুনিক বিমানঘাঁটি গড়ে তোলার প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নতুন জঙ্গি বিমান সংযোজনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব বিমান এই ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে, যা আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়াবে।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দেশে দক্ষ পাইলটের ঘাটতি পূরণে বগুড়ায় একটি আধুনিক ফ্লাইং একাডেমি স্থাপন করা হবে। এখানে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন বৈমানিক তৈরি করা হবে, যা তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্থানীয় জনগণকে উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এ সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)) চেয়ারম্যান, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।