জাতীয়

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ঔষধি উদ্ভিদের ডেটাবেজ তৈরি করল বাংলাদেশ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ এএম

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ঔষধি উদ্ভিদের ডেটাবেজ তৈরি করল বাংলাদেশ
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ঔষধি উদ্ভিদের তথ্যভান্ডার। বাংলাদেশ মেডিসিনাল প্ল্যান্টস অ্যান্ড ফাইটোকেমিক্যাল ডেটাবেজ (BMPPD) নামের এই ডেটাবেজে স্থান পেয়েছে প্রায় ৭০০টি ঔষধি উদ্ভিদের ৬৩ হাজারেরও বেশি ঔষধিগুণসম্পন্ন রাসায়নিক উপাদানের (ফাইটোকেমিক্যাল) তথ্য। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডন অব বায়োইনফরমেটিক্স দাবি করেছে, এ তথ্যভান্ডার নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে দেশীয় গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হবে।

ডন অব বায়োইনফরমেটিক্সের গবেষক ফয়সাল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক ঔষধি উদ্ভিদ থাকলেও এতদিন এসবের তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষিত ছিল না। নতুন ওষুধ আবিষ্কার ও উন্নয়নের লক্ষ্যেই প্রায় ৭০০টি ঔষধি উদ্ভিদ থেকে ৬৩ হাজারের বেশি স্বতন্ত্র (ইউনিক) রাসায়নিক যৌগের তথ্য সংগ্রহ করে এই ডেটাবেজ তৈরি করা হয়েছে।

তিনি জানান, তাদের এক গবেষণায় বিষকাটালি উদ্ভিদে এমন একটি অণুর (মলিকিউল) সন্ধান পাওয়া গেছে, যা লিভার ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সম্ভাবনাময় কার্যকারিতা দেখিয়েছে। তার ভাষায়, দেশের বিভিন্ন ঔষধি উদ্ভিদে এমন আরও অসংখ্য কার্যকর যৌগ রয়েছে, যেগুলো ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ডন অব বায়োইনফরমেটিক্সের ৩১ জন গবেষক ও সহকারীর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে এই ডেটাবেজ। গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে এর সহায়তায় বাংলাদেশ সম্পূর্ণ নতুন (ডি নোভো) ওষুধ উদ্ভাবনের সক্ষমতা অর্জন করবে।

তাদের মতে, আগামী বছর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ওষুধ শিল্পে বিদ্যমান কিছু পেটেন্ট সুবিধা সীমিত হয়ে যাবে। সে প্রেক্ষাপটে দেশীয় ওষুধ উদ্ভাবন এবং ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণে এই ডেটাবেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণার সুবিধার্থে দেশের ৪৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ডেটাবেজটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে গবেষকদের অভিযোগ, বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দেশে এখনো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের কোনো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি।

ডন অব বায়োইনফরমেটিক্সের প্রতিষ্ঠাতার দাবি, তাদের তৈরি BMPPD ভারতের IMPPAT 2.0-কে ছাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ঔষধি উদ্ভিদের তথ্যভান্ডারে পরিণত হয়েছে।

গবেষকদের আশা, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে শুধু নতুন ওষুধ উদ্ভাবনই নয়, মলিকিউলার ডায়াগনস্টিকস প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের নির্ণয় ও চিকিৎসা গবেষণায়ও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে।