জাতীয়

ঘণ্টায় ২০০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে ‘সুপার টাইফুন বাভি’ 


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ এএম

ঘণ্টায় ২০০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে ‘সুপার টাইফুন বাভি’ 
ছবিঃ সংগৃহীত

ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগের ঝোড়ো বাতাস নিয়ে চীন ও তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, বিস্তৃতি বা আকারের দিক থেকে ১৯৮৭ সালের পর এটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় টাইফুন।

সম্ভাব্য ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলায় তাইওয়ান ও চীন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রায় ২৯ হাজার সেনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকায় জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ‘বাভি’ সাম্প্রতিক বছরের সবচেয়ে বিধ্বংসী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়গুলোর একটি হতে পারে। এরই মধ্যে টাইফুন ‘মায়সাক’-এর ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে থাকা অঞ্চলগুলো আবারও নতুন দুর্যোগের মুখে পড়েছে।

আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী তাইপের আশপাশের উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২৯ হাজার সেনাকে প্রস্তুত রেখেছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, ২০২৪ সালের ‘কং-রে’ টাইফুনের পর এটিই হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়।

জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত ‘বাভি’ উত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে শনিবার সন্ধ্যায় চীনের ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে।

তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাস কর্মকর্তা জেসন চ্যাং বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত বড় আকারের ঘূর্ণিঝড় খুব কমই দেখা গেছে। তার মতে, আয়তনের দিক থেকে এটি ১৯৮৭ সালের পর তাইওয়ানের জন্য সবচেয়ে বড় টাইফুন হতে পারে।

এদিকে সপ্তাহের শুরুতে টাইফুন ‘মায়সাক’-এর প্রভাবে চীনের গুয়াংসি অঞ্চলে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন এবং ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়ছে। চলতি বছর এল নিনোর প্রভাব তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে শক্তিশালী টাইফুন সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে।

বাণিজ্যিক আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান অ্যাকুওয়েদার-এর বিশেষজ্ঞ জেসন নিকোলস বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ‘বাভি’র বাতাসের গতি কিছুটা কমলেও শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত এটি তাইওয়ান ও পূর্ব চীনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ঝড় হিসেবেই থাকবে।

এদিকে জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলেও প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

টাইফুনের প্রভাবে জাপান এয়ারলাইন্স ৪৮টি অভ্যন্তরীণ ও দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে প্রায় ৭ হাজার ৬১০ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অন্যদিকে অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ দুই দিনে ৬৭টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে, যা প্রায় ৭ হাজার ৭০০ যাত্রীর ভোগান্তির কারণ হবে।

এ ছাড়া টাইফুন ‘মায়সাক’-এর বন্যায় চীনের একটি খামারে অসংখ্য শূকর মারা গেছে। গুইগাং চিড়িয়াখানায় বন্যার পানিতে তিনটি সিংহ মারা গেছে এবং জেব্রা, সজারুসহ প্রায় ১০০টি প্রাণী নিখোঁজ রয়েছে।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ-এর ঘূর্ণিঝড় গবেষক শিয়াংবো ফেং বলেন, দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির ওপর অবস্থান করায় ‘বাভি’ বিপুল শক্তি ও আর্দ্রতা সঞ্চয় করেছে। তার মতে, উপকূলে আঘাত হানলে এর ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ হতে পারে এবং গতিপথে সামান্য পরিবর্তনও ক্ষতির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।