জাতীয়

জ্বালানি সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর লাগতে পারে: উপদেষ্টা জাহেদ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

জ্বালানি সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর লাগতে পারে: উপদেষ্টা জাহেদ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তার মতে, দীর্ঘদিনের ঘাটতি ও পুঞ্জীভূত সমস্যার কারণে তৈরি হওয়া এই সংকট কাটিয়ে জ্বালানি খাতে ভালো অবস্থানে যেতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে বর্তমান সংকটের জন্য শুধু বর্তমান সরকারকে দায়ী করা ঠিক হবে না। দীর্ঘদিনের ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার প্রভাব হিসেবেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার কারণে এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। দুর্ঘটনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া দুটি প্ল্যান্ট পুনরায় চালু হলেও পুরো ঘাটতি পূরণ হবে না। কারণ, এটি স্বল্পমেয়াদি সমস্যা নয়; বছরের পর বছর ধরে এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, গ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্টে দুর্ঘটনার পর দ্রুত সংকট মোকাবিলায় একটি প্ল্যান্টের জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আরও দুটি প্ল্যান্ট আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি ভোলায় থাকা গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মধ্যমেয়াদে স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজও শুরু হয়েছে।

সরকারি তথ্য ও জরিপের ভিত্তিতে দেশের স্থলভাগে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। অথচ বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। এতদিন স্থলভাগের সম্ভাব্য গ্যাসের মজুত অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে নতুন করে দুটি রিগ কেনা হয়েছে এবং পুরোনো রিগগুলোও সচল রাখার চেষ্টা চলছে। কয়লার ক্ষেত্রেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে।

জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কাটতে কত সময় লাগতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে একটি আনুমানিক সময়সীমা দিয়েছেন। জ্বালানি খাতে ভালো বা অনেকটা ভালো অবস্থানে যেতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও জ্বালানি সংকটকে জটিল করে তুলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত অনিশ্চিত। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ যেকোনো সময় আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও বাব-এল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে সংকট তৈরি হলে জ্বালানি পরিবহন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

সরকার রাতারাতি সব সমস্যার সমাধানের দাবি করছে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে মানুষের জীবনযাত্রা যাতে সহনীয় রাখা যায়, সে চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো অন্যতম। ইতোমধ্যে সরকারি সব স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

বর্তমান সংকটকে অতীতের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার ফল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো সরকারের সময়ে তৈরি হওয়া সমস্যার প্রভাব অনেক সময় পরবর্তী সরকারকে মোকাবিলা করতে হয়। জ্বালানি খাতেও দীর্ঘদিনের ঘাটতির প্রভাব এখন সামাল দিতে হচ্ছে।