জাতীয়

সিলেটে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

সিলেটে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং নতুন শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রবাসী অধ্যুষিত ও পর্যটনসমৃদ্ধ সিলেটের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

শনিবার (তারিখ উল্লেখ না থাকায়) নগরীর কুশিয়ারা কনভেনশন হলে সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, সিলেটে কোন কোন খাতে নতুন ব্যবসা ও শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে এবং বিদ্যমান সম্ভাবনাময় খাতগুলো কীভাবে আরও সম্প্রসারণ করা যায়, তা ব্যবসায়ীদের নিজেদেরই চিহ্নিত করতে হবে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রস্তাব নিয়ে ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে শিল্প-কারখানা স্থাপনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

তিনি বলেন, শুধু সভা-সমাবেশ কিংবা আলোচনা করলেই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে না। এর জন্য প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক ও দৃশ্যমান উদ্যোগ। ব্যবসায়ীদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করে সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ব্যবসায়ীদের স্বার্থ যথাযথভাবে তুলে ধরতে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে ব্যবসায়ী সংগঠন পরিচালনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নেতৃত্ব তৈরি হলে তাদের প্রকৃত স্বার্থ, সমস্যা ও প্রত্যাশা আরও কার্যকরভাবে সংগঠনের মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

এ সময় তিনি সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনে কার্যকর, স্বচ্ছ ও প্রতিনিধিত্বশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনগুলো আরও শক্তিশালী হলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শ্রমমন্ত্রী বলেন, সিলেট রাজনৈতিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। একই সঙ্গে প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলে পর্যটন, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে সিলেটে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।

বিভিন্ন মেলা ও বাণিজ্যিক আয়োজন পরিচালনার ক্ষেত্রেও সুশৃঙ্খল ও সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, একই সময়ে কিংবা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভিন্ন আয়োজন করা হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও সমন্বয়হীনতা তৈরি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় করে নির্দিষ্ট নিয়ম ও শৃঙ্খলার মধ্যে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে। এতে ব্যবসায়ীদের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত ও সমাধান করার পাশাপাশি নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথও সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা সিলেটে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ আরও উন্নত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ, কার্যকর নেতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।