রাজনীতি
৩১ দলের মধ্যে ২৫টি দলই পিআর চায়: জামায়াত নেতা তাহের
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের জন্য জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা সবাই এর সঙ্গে একমত। আমরাও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে এর আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধান করা প্রয়োজন। যেমন—জুলাই সনদ বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন না হলে এ বিষয়ে একমতের বাস্তবতা থাকবে না।”
জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে তাহের বলেন, “তিনি নির্বাচনের বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তার সঙ্গে দ্বিমত করার কোনো কারণ নেই। যদিও তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে তার বক্তৃতাটি অসাধারণ ছিল। যদি বক্তৃতা প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা হতো, তাহলে তিনি নিশ্চিতভাবেই স্বর্ণপদক পেতেন।”
জামায়াত নেতা আরও বলেন, “সবচেয়ে ব্যতিক্রম ও প্রশংসনীয় বিষয় হচ্ছে—প্রথমবার কোনো রাষ্ট্রপ্রধান সফরসঙ্গী হিসেবে রাজনৈতিক দলের মূল স্টেকহোল্ডারদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আমি এই অনন্য উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।”
প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই উচ্চ ও নিম্ন দুই কক্ষেই পিআর ব্যবস্থা কার্যকর হোক। ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে ৩১টি রাজনৈতিক দল উপস্থিত ছিল, এর মধ্যে ২৫টি দল পিআরের পক্ষে মত দিয়েছে। যদিও মতভেদ ছিল—কেউ শুধু উচ্চ কক্ষে, আবার কেউ দুই কক্ষেই পিআরের পক্ষে। তারপরও এটি পরিষ্কার যে, ৩১ দলের মধ্যে ২৫টি দলই পিআরের পক্ষে।”
এসময় সাংবাদিকরা জানতে চান, পিআর ব্যবস্থা কার্যকর না হলে জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেবে কি না। জবাবে তাহের বলেন, “রাজনীতিতে ‘ইফ’ বা ‘বাট’ বলে কিছু নেই। আমরা জনগণের দাবি উপস্থাপন করছি। আশা করি সরকার এটি মেনে নেবে, কারণ এটি জনগণের প্রয়োজন। আর আমরা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।”
আলোচনার সময় জামায়াত নেতা নকিবুর রহমান তারেকও উপস্থিত ছিলেন।