রাজনীতি
নির্বাচনের বিকল্প নেই, দেশে দুর্ভিক্ষের আলামত স্পষ্ট: রুহুল কবির রিজভী
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভয়াবহ দুর্দশার দিকে এগোচ্ছে এবং দেশের মানুষ এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শুক্রবার (১১ জুলাই) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জিয়া পরিষদের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের রোগমুক্তি কামনায় দুঃস্থদের মাঝে জায়নামাজ বিতরণ করা হয়।
রিজভী বলেন, “দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, দেশে দুর্ভিক্ষের আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ভয়াবহ সংকট দেখা দিতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “এই সংকট নিরসনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই। জনগণকে তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত সরকার গঠন করবে, এবং তবেই সংকটের সমাধান সম্ভব।”
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে মানুষ কাউকে ছাড় দেবে না। একটি সরকার যখন জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হয়, তখন তারা জনগণের প্রতি দায়িত্বহীন হয়ে পড়ে।”
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “বিবিসির এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে, শেখ হাসিনা খুনের হুকুম দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো—বর্তমান সরকার মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়।”
রিজভী আরও বলেন, “১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশালের মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছিল। আজও সেই পথেই হাঁটছে সরকার। একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় ভোট নিয়ে টালবাহানা চলছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “২০১৮ সালের নির্বাচন ছিল এক ধরনের প্রহসন। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রমাণ করেছে, শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। আজও প্রশাসন, সচিবালয় ও রাষ্ট্রযন্ত্রে ফ্যাসিবাদের ছায়া বিস্তৃত রয়েছে। এসব চক্র আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।”
রিজভী সরকারের উদ্দেশে বলেন, “আরও দেরি করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এখনও সময় আছে—জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিন, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করুন।”