রাজনীতি
জামায়াতের রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াত ইসলামীর রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তারা ধর্মের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। অন্যদিকে বিএনপি পাঁচবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে দেশ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বিএনপি দেশের মানুষের স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “কিছুদিন আগেও আমরা কল্পনা করতে পারতাম না যে, রাতে এভাবে কোনো নির্বাচন বা রাজনৈতিক সভা করা সম্ভব হবে। তখন দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম ছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট আমরা সেই রাজত্ব থেকে মুক্ত হয়েছি। আজ আমরা মুক্ত বাতাসে কথা বলতে পারছি। এজন্যই এই নির্বাচন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, “এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীরা অকল্পনীয় ত্যাগ স্বীকার করেছেন। অসংখ্য মামলা হয়েছে, প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, ১ হাজার ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে ছয় বছর কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। তারেক রহমানকে বিদেশে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। আমি নিজে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১১ বার কারাবরণ করেছি।”
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার ছাত্র, শ্রমিক ও কৃষক প্রাণ দিয়েছেন। এত রক্ত আর ত্যাগের পর আমরা একটি নির্বাচন পেয়েছি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন সংসদ ও গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের প্রত্যাশা, এই সরকার দেশের মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করবে, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে কাজ করতে পারবে।”
তিনি বলেন, বিএনপি কখনো প্রতিশোধ কিংবা প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। “৫ আগস্টের রাতেই আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালের বেড থেকে জাতির উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন। সে সময় চারদিকে আতঙ্ক ছিল, আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল। বাড়িঘর লুট, দখল চলছিল। তখন তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন-এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়; ভালোবাসা আর মাতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। সেই সময় এখন আমাদের সামনে এসেছে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ফলে বিএনপিই এখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। আরেকটি দলও মাঠে আছে, যারা একসময় আমাদের সঙ্গে ছিল। এখন জনগণের সামনে প্রশ্ন-ধানের শীষ না দাঁড়িপাল্লা?”
তিনি বলেন, “ধানের শীষের একটি গৌরবোজ্জ্বল অতীত আছে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই প্রতীক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ অপবাদ থেকে তুলে এনেছেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাতিল করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিএনপিই প্রথম সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেছে।”
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, “বিগত সরকার আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ভয়াবহ কষ্ট দিয়েছে। চাকরির পরীক্ষায় লিখিত ও ভাইভা পাস করেও তদন্তে যদি দেখা যেত প্রার্থী বিএনপির সমর্থক বা আমার এলাকার ছেলে-তাহলে আর চাকরি হতো না। এই বৈষম্যই তারা করেছে। আমরা এসব করব না। আমরা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই।”
শেষে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান-সবাই একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করবে। যদি আপনারা একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ চান, তাহলে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে কাজ করার সুযোগ দিন।”