রাজনীতি

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে : আখতার হোসেন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে : আখতার হোসেন
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রথম সফরে আসছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছ এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে আখতার হোসেন বলেন, হারাগাছে তার আগমনকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর দায় এমদাদুল হক ভরসা ও বিএনপির হাইকমান্ডকে নিতে হবে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি লেখেন, “আমরা হারাগাছের নিপীড়িত শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।”

স্ট্যাটাসে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে হারাগাছে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার গঠনের আভাস পাওয়ার পর থেকেই ভরসার সমর্থকেরা এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

নির্বাচনের দিন পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি লেখেন, ১২ ফেব্রুয়ারি রংপুর-৪ আসনের অন্তর্গত হারাগাছ পৌরসভার প্রায় সব কেন্দ্রেই এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকের কর্মীদের বাধা দেওয়া হয়। একাধিক কেন্দ্রে কর্মীদের মারধর, ভোটার স্লিপ বিতরণের টেবিল ভাঙচুর এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে জানালেও তৎক্ষণাৎ কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন আখতার হোসেন।

তিনি আরও বলেন, ভোট গণনার সময় কেন্দ্রভিত্তিক কাস্টিং ভোটের হিসাব সংগ্রহ করতে গিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়তে হয়। হারাগাছ মডেল কলেজ কেন্দ্রে শত শত লোক গেট আটকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আখতার হোসেনের দাবি, হারাগাছ পৌরসভায় ভোটের সংখ্যা কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই জালিয়াতি ঠেকানো সম্ভব হওয়ায় শাপলা কলি প্রতীক বিজয়ী হয়েছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর শুরু হয়েছে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা-এমন অভিযোগও করেন তিনি।

তিনি লেখেন, গত দেড় বছরে হারাগাছ পৌরসভার উন্নয়নে তিন দফায় প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ এনেছেন। এসব কাজের অগ্রগতি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতেই তার এই সফর। তবে সফর ঘিরে হরতাল ও বিক্ষোভের ঘোষণাকে তিনি ‘সরকারে থেকেও বিরোধী দলের এমপির বিরুদ্ধে আন্দোলন’ বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা বলেন, তিনি বর্তমানে অসুস্থতার কারণে ঢাকায় চিকিৎসাধীন এবং হারাগাছে কোনো কর্মসূচি নেই। তার নাম ব্যবহার করে যে বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিনি। ভোট পুনর্গণনাসহ সব বিষয়ে তিনি আইনগত পথেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক ভরসা পান ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।