রাজনীতি

এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে তরুণীকে মদের বারে ডেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:০৭ এএম

এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে তরুণীকে মদের বারে ডেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন ও চট্টগ্রাম মহানগরের নেত্রী সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন দলটির এক পদপ্রত্যাশী নারী কর্মী। 

গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) নগরের কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী এসব অভিযোগ করেন।

তার দাবি, সংগঠনের পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে নগরের একটি অভিজাত হোটেলের বারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সুজা উদ্দিন তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। অন্যদিকে সাদিয়া আফরিন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এবং দলটির সহযোগী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক। 

সংবাদ সম্মেলনে ওই তরুণী নিজেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী এবং চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তির একটি পদের প্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন।

তিনি বলেন, নারীশক্তির কমিটি গঠনসংক্রান্ত আলোচনা হবে জানিয়ে পূর্বপরিচিত সাদিয়া আফরিন তাকে নগরের পেনিনসুলা হোটেলে নিয়ে যান। গত ১৪ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, হোটেলের শীর্ষতলায় অবস্থিত বারে সুজা উদ্দিন কয়েকজনের সঙ্গে বসে আছেন।

তিনি অভিযোগ করে, সেখানে বসার পর সুজা উদ্দিন তাকে ধূমপান ও মদপানে উৎসাহিত করেন। তার কাছে সুজাকে মদ্যপ বলেও মনে হয়েছে। পরে তাকে বিভিন্ন ধরনের পানীয় নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

অভিযোগকারী তরুণীর দাবি, তিনি অস্বস্তি প্রকাশ করলে সাদিয়া আফরিন তাকে সুজা উদ্দিনের নির্দেশনা অনুযায়ী চলার পরামর্শ দেন। কিছুক্ষণ পর সাদিয়া চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান। এরপর সুজা উদ্দিন তাকে কয়েকবার পাশে গিয়ে বসতে বলেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি ও অঙ্গভঙ্গি ছিল অশালীন এবং যৌন হয়রানিমূলক। 

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে উঠলে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় সুজা উদ্দিন তাকে ‘ডিল অর ডেথ’ বলে হুমকিসদৃশ মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা, পদ-পদবি এবং আর্থিক সহযোগিতার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়।

হোটেল থেকে বের হওয়ার পর সাদিয়া আফরিনকে ফোন করে ঘটনার প্রতিবাদ জানালে তিনি তাকে বলেন, ‘রাজনীতি করতে হলে বড় পদ-পদবিধারীদের ব্যক্তিগত সময় দিতে হয়। এটাই রাজনৈতিক কালচার।’ 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। সাদিয়া আফরিনের ফোন নম্বর সচল থাকলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

এ ঘটনায় সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে ১৭ জুন চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানান অভিযোগকারী।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন জানান, ‘এ ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কিছু বলা যাচ্ছে না।’