ধর্ম

দ্রুত বিয়ের জন্য করণীয় আমল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

দ্রুত বিয়ের জন্য করণীয় আমল
ছবি: সংগৃহীত

বিবাহ ইসলামি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কখন কার জীবনে শুরু হবে, তা মূলত আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। অনেক সময় দেখা যায়, বয়স উপযুক্ত হলেও নানা কারণে অনেকের বিয়ে বিলম্বিত হয়। এতে অনেকেই মানসিকভাবে হতাশ হয়ে পড়েন। তবে ইসলাম ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার শিক্ষা দেয়।

সমাজে এমন অনেক ছেলে-মেয়ে আছেন যারা বিয়ের প্রস্তাব পেলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্পন্ন হয় না। আবার কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে কোনো প্রস্তাবই পান না। এসব পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং কিছু আমল নিয়মিত পালন করা মুসলমানদের জন্য উপকারী হতে পারে।

ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, ব্যক্তির অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিবাহ কখনো ফরজ, কখনো ওয়াজিব, কখনো সুন্নাত, আবার কখনো মোবাহ বা মাকরূহ হতে পারে। তাই সঠিক সময় ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সমাজের বিভিন্ন জটিলতা, পারিবারিক সিদ্ধান্ত বা আর্থিক সমস্যার কারণে অনেক তরুণ-তরুণীর বিয়ে বিলম্বিত হচ্ছে। এ কারণে তারা উদ্বেগ বা হতাশায় ভুগতে পারেন। তবে আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধরলে উত্তম সমাধান পাওয়া সম্ভব।

যারা বিয়ের বয়স অতিক্রম করেছেন এবং এখনও বিবাহ করেননি, তাদের জন্য বিশেষ কিছু আমল রয়েছে যা অনুসরণ করলে দ্রুত বিয়ে করার পথ সুগম হতে পারে। নিচে তা বর্ণনা করা হলো:

ইসতেগফার

সব সময় জবানে ইসতেগফার জারি রাখা। অর্থাৎ ‘আসতাগফিরুল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ’ পড়া।

اَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِىْ لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।’

অর্থ: "আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরন্তন; এবং আমি তাঁর কাছে ফিরে আসি"

সুরা ইয়াসিন পাঠ করা

সুরা ইয়াসিন বিয়াসহ জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে। বিয়ের প্রস্তাব এসেছে কিন্তু বিবাহ সম্পন্ন হচ্ছে না এমন ব্যক্তিদের জন্য সুরা ইয়াসিনের একটি বিশেষ আমল রয়েছে। প্রতিদিন সকালে, যখন সূর্য পূর্ব আকাশে লাল হয়ে ওঠে, তখন পশ্চিমমুখী হয়ে সুরা ইয়াসিন পাঠ করা এই আমলের অংশ।

সুরা আদ-দোহা সহ ও সুরা কাসাসের  আয়াত পাঠ করা

فَسَقَى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّى إِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ : ফাসাক্বা লাহুমা ছুম্মা তাওয়াল্লা ইলাজজিল্লি ফাক্বালা রাব্বি ইন্নি লিমা আংযালতা ইলাইয়্যা মিন খায়রিং ফাক্বির।

হজরত মুসা আলাইহিস সালাম যখন একাকী বা বিষণ্ণ বোধ করতেন, তখন তিনি একটি নির্দিষ্ট আয়াত বেশি বেশি পাঠ করতেন। বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যারা অপেক্ষা করছেন, তাদের জন্য এ আয়াতের বিশেষ আমল রয়েছে।

ছেলেদের জন্য: যদি কোনো ছেলে এই আয়াতটি প্রতিদিন ১০০ বার পাঠ করেন, আল্লাহ তাআলা তার জন্য সেরা পাত্রীর ব্যবস্থা করে দেন।
মেয়েদের জন্য: যদি কোনো মেয়ে নিয়মিত সুরা দোহা ১১ বার তেলাওয়াত করেন, আল্লাহ তাআলা তার জন্য সর্বোত্তম পাত্রের ব্যবস্থা করেন।
এটি এক ধরণের বিশ্বাসভিত্তিক আমল, যা ধৈর্য, নিয়মিত তেলাওয়াত এবং আল্লাহর ওপর ভরসার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হয়।
আল্লাহ নামের জিকিরের বিশেষ আমল

১. আমল শুরু করার আগে ১১ বার দরুদ শরিফ পাঠ করুন।
২. এরপর ৩১৩ বার “আল্লাহ” নামের জিকির করুন।
৩. শেষ করে আবার ১১ বার দরুদ শরিফ পাঠ করুন।
৪. এই আমলটি ৪১ দিন টানা, কোনো দিন বাদ না দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে।

সুরা তাওবার এ আয়াতটি তেলাওয়াত করা

فَإِن تَوَلَّوْاْ فَقُلْ حَسْبِيَ اللّهُ لا إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ : ফাইং তাওয়াল্লাও ফাকুল হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।

অর্থঃ এ সত্ত্বেও যদি তারা বিমুখ হয়ে থাকে, তবে বলে দাও, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত আর কারো বন্দেগী নেই।

১. প্রথমে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করুন।
২. নামাজের পর আমলটি শুরু করুন।
৩. পাঠ শুরুতে ১৯ বার “বিসমিল্লাহ” বলুন।
৪. এরপর সুরা তাওবা, ১২৯ নম্বর আয়াত ১১০০ বার তেলাওয়াত করুন।
৫. তারপর ১০০ বার দরুদ শরিফ পাঠ করুন।
৬. শেষে আবার ১০০ বার “বিসমিল্লাহ” বলুন।

সুরা মরিয়ম পড়া

সূরা মরিয়মের একটি বিশেষ আমল আছে, যা এক ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পর পড়া হয়। যে মেয়ের বা ছেলের বিবাহ নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তিনি নিজে এটি পড়তে পারেন। এছাড়া তাদের বাবা-মা বা অভিভাবকরাও এই সূরা পড়তে পারেন।

সুরা মুজাম্মিল পড়া

যদি কোনো মেয়ে বড় হয়ে যায় কিন্তু বিবাহের প্রস্তাব না পায়, তাহলে তার মা-বাবা বা কোনো একজন অভিভাবক শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুই রাকাত নামাজ আদায় করবেন এবং এরপর ২১ বার সুরা মুজাম্মিল পাঠ করবেন।

আল্লাহ তাআলা বিয়ে প্রত্যাশী নারী ও পুরুষ এবং তাদের অভিভাবকদের নিয়মিত এই আমলগুলো করার তাওফিক দান করুন। পাশাপাশি কুরআন ও সুন্নাহর বিধিবিধান যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

চক্ষু শীতলকারী স্ত্রী লাভের দোয়া

কোরআনে বর্ণিত দোয়াটি আপনিও করতে পারেন। ইনশাআল্লাহ আপনি প্রশান্তিদায়ক স্ত্রী লাভে ধন্য হবেন। দোয়া শিখিয়ে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻫَﺐْ ﻟَﻨَﺎ ﻣِﻦْ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟِﻨَﺎ ﻭَﺫُﺭِّﻳَّﺎﺗِﻦَﺍ ﻗُﺮَّﺓَ ﺃَﻋْﻴُﻦٍ ﻭَﺍﺟْﻌَﻠْﻨَﺎ ﻟِﻠْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ ﺇِﻣَﺎﻣًﺎ

উচ্চারণ : রাব্বানা-হাবলানা-মিন আজওয়া-জিনা- ওয়া যুররিইয়া-তিনা, কুররাতা আ‘ইউনিওঁ, ওয়াজ‘আলনা-লিলমুত্তাকিনা ইমা-মা-।

অর্থ : হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান করো এবং আমাদের আল্লাহভীরুদের জন্য আদর্শস্বরূপ করো। (সুরা ফুরকান, আয়াত : ৭৪)

ইসলামি আলেমরা বলেন, দ্রুত বিয়ের জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা বা ইসতেগফার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। নিয়মিত ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়া এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। পাশাপাশি নামাজ, দোয়া এবং সৎ জীবনযাপনের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত কামনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ধৈর্য, দোয়া ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সহজ হয়ে যেতে পারে বলে ইসলামি শিক্ষায় উল্লেখ রয়েছে।