ধর্ম
নবীজি (সা.) শবে কদরে যে দোয়া পড়তে বলেছেন
শবে কদর হচ্ছে রমজান মাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রাত। প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে এই রাতটি খুঁজতে বলেছেন।
তবে বাংলাদেশের অনেকের কাছে ২৬ রমজান দিনগত রাতটিকে শবে কদর হিসেবে ধারণা করা হয়। যদিও এটি শবে কদর হওয়ার কোনো নিশ্চিত আলামত হিসেবে ধরা যায় না।
সাহাবায়ে কেরাম ও হাদিসবিশারদদের বিভিন্ন মত থাকার কারণে এই রাতের ব্যাপারে অবহেলা করা চলবে না। প্রতিটি মুসলিমকে সতর্ক থাকা ও ইবাদতের মাধ্যমে এ রাতের মর্যাদা ধারণ করার প্রচেষ্টা করতে উৎসাহিত করা হয়।
স্বাভাবিকতই আল্লাহ তাআলা রমজানের দোয়া কবুল করেন। রোজা অবস্থায় যে দোয়া করা হয়, তা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। নবী (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া অগ্রাহ্য করা হয় না (বরং কবুল করা হয়); পিতার দোয়া, রোজাদারের দোয়া এবং মুসাফিরের দোয়া।’ (বায়হাকি, হাদিস : ৩/৩৪৫; সিলসিলাতুস সহিহা, আলবানি : ১৭৯৭ )
যে দোয়া বেশি বেশি করবেন
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- হে আল্লাহর রাসুল, আমি যদি জানতে পারি যে, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর— তাহলে তখন কোন দোয়া পড়বো? তখন তিনি বললেন, তুমি বলো—
اللَّهمَّ إنَّك عفُوٌّ كريمٌ تُحِبُّ العفْوَ، فاعْفُ عنِّي
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারিম; তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি।
অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি মহানুভব ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫১৩)
যে আমলটি অবশ্যই করা উচিত
বিশেষ করে ওই দিন মাগরিব ও এশার নামাজ মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে আদায় করা উচিত। তাহলে হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী শবে কদরের ফজিলত লাভ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি এশা ও ফজর জামাতের সঙ্গে পড়ে, সে যেন সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৫৬)
শবে কদরে আরও যে আমল করতে পারেন
দুই ব্যক্তির বিরোধ বা কোনো পরিবারের পারস্পরিক ঝগড়াবিবাদ মিটিয়ে দেওয়া শবে কদরের অন্যতম ইবাদত। উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুল (সা.) ‘লাইলাতুল ক্দর’ এর ব্যাপারে খবর দিতে বের হলেন। এ সময় দু্ইজন মুসলমান ঝগড়া করছিলেন। তখন নবী কারিম (সা.) বললেন, ‘আমি আপনাদের ‘লাইলাতুল কদর’ এর ব্যাপারে অবহিত করতে বের হয়েছিলাম। কিন্তু অমুক অমুক ব্যক্তি বিবাদে লিপ্ত হওয়ায় তা (সেই জ্ঞান) উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। আশা করি, উঠিয়ে নেওয়াটা আপনাদের জন্য বেশি ভালো হয়েছে। আপনারা সপ্তম (২৭ তম), নবম (২৯ তম) এবং পঞ্চম (২৫ তম) তারিখে এর সন্ধান করুন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৯)
শবে কদর শব্দটি ফারসি। আরবিতে ‘লাইলাতুল কদর’। লাইলাতুল বা শব-এর অর্থ রাত। কদর-এর অনেক অর্থ, যেমন- পরিমাপ, পরিমাণ, নির্ধারণ, ভাগ্য নিরূপণ, সম্মান, গৌরব, মর্যাদা ও মহিমা।
সুতরাং ‘লাইলাতুল কদর’ বা ‘শবে কদর’ অর্থ সম্মানিত, মর্যাদাপূর্ণ, মহিমান্বিত ও ভাগ্যনির্ধারণী রজনী।
এ রাতকে ‘লাইলাতুল কদর’ বলার কারণ হচ্ছে—এ রাতের পূর্বে আমল না করার কারণে যাদের কোনো সম্মান মর্যাদা, মূল্যায়ন ছিল না তারাও তওবা-ইস্তেগফার ও ইবাদতের মাধ্যমে এ রাতে সম্মানিত ও মহিমান্বিত হয়ে যান। (তাফসিরে মারেফুল কোরআন) রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত জাগবে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে’ (সহিহ বুখারি: ৩৫)