সারাদেশ
কুমিল্লায় ‘প্রথম’ অঙ্গ প্রতিস্থাপন, পায়ের আঙুল কেটে লাগানো হলো হাতে
কুমিল্লায় প্রথমবারের মতো অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ব্যতিক্রমী এক অস্ত্রোপচারে পায়ের আঙুল এনে হাতে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই সাফল্যে নতুন করে আশার আলো দেখছেন অনেকে।
গাজীপুরের আশরাফুল আলম। সৌদি আরবে গাড়ি চালাতেন। ২০২৪ সালে সেখানে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল হারান তিনি। সেই থেকে পেশা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। অনেক হাসপাতাল ঘুরেও ফিরে পাননি স্বস্তির কোনো খবর। শেষে কুমিল্লায় এসে পান চিকিৎসা আর আশার ঠিকানা।
কুমিল্লার পিপলস হাসপাতালে চিকিৎসক কামরুল ইসলাম মামুনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল এই জটিল অস্ত্রোপচারটি করেন। রোগীর পায়ের দ্বিতীয় আঙুল কেটে এনে হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের জায়গায় সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়।
চিকিৎসক মামুন বলেন, “এটাই কুমিল্লায় প্রথম অঙ্গ প্রতিস্থাপন। সাধারণত রাজধানী বা বিদেশে এমন অস্ত্রোপচার হয়। কিন্তু জেলা শহরে এ ধরনের কাজ চিকিৎসা সেবায় একটি নতুন মাইলফলক।”
প্রায় সাত ঘণ্টার দীর্ঘ অস্ত্রোপচার শেষে রোগীর হাতে প্রতিস্থাপিত আঙুলে এখন রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক। শুরু হয়েছে নার্ভ সচলতার প্রক্রিয়াও। চিকিৎসকরা বলছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পুরোপুরি শরীরের সঙ্গে খাপ খেয়ে নেবে।
এই অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি ও খরচ সম্পর্কে জানতে চাইলে চিকিৎসকরা জানান, অঙ্গ প্রতিস্থাপন অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল চিকিৎসা। অনেকেই তা দেশের বাইরে গিয়ে করান। তবে কুমিল্লায় এই উদ্যোগ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক দৃষ্টান্ত তৈরি করল।
কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাউছার হামিদ বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী অর্জন। চিকিৎসক কামরুলের নেতৃত্বে আরও একটি সফল অস্ত্রোপচারের গল্প লেখা হলো।”
রোগী আশরাফুল আলম বলেন, “ভাবতেই পারিনি দেশে থেকে এই অস্ত্রোপচার করানো সম্ভব হবে। আমি এতদিন হতাশায় ছিলাম, এখন নতুন করে আশা জাগছে যে আবার গাড়ি চালাতে পারব। মনে হচ্ছে আমার হারানো আঙুল ফিরে পেয়েছি।”
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমদ বলেন, “এ ধরনের অস্ত্রোপচার সাধারণত ঢাকাতেও কম হয়। কুমিল্লায় এটি নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী ঘটনা। কম খরচে জেলায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছাতে পারলে সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হবে।”