সারাদেশ

অপ্রতিম হত্যা: তিন ‘ঘাতকের’ সঙ্গে মিলল সেই আইফোনও


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

অপ্রতিম হত্যা: তিন ‘ঘাতকের’ সঙ্গে মিলল সেই আইফোনও
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় আটক তিনজনকেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আটক তিনজন হলেন মো. তুহিন, শাহরিয়া আনাস ও মো. ফাহিম।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় প্রথমে তুহিনকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহিম ও আনাসকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও আলামত যাচাই করে হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

রোববার বেলা ১১টায় জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আটকের আগে অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন শাহরিয়া আনাস। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে নিজের কথোপকথনের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। অপ্রতিম মাঝে মাঝে তাকে ছবি তোলার জন্য কোথায় আছেন জানতে চেয়ে বার্তা দিত বলেও উল্লেখ করেন আনাস।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি সে। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতিমের মুঠোফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিন নামে এক তরুণকে দেখা যায়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাসকে এবং পরে ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়।

অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা ১২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এর আগে তিনজনকে আটকের পর কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জানিয়েছিলেন, অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও অন্যান্য আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।