সারাদেশ

মাদারীপুরে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ইজিবাইকের সংঘর্ষ, নিহত ৭


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

মাদারীপুরে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ইজিবাইকের সংঘর্ষ, নিহত ৭
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে মাদারীপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঘটকচর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। উদ্ধার কার্যক্রম রাত পর্যন্ত চলমান ছিল।

নিহতদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া তিনজন হলেন- কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর এলাকার শাহ আলমের ছেলে রুমান (২৫), কলেজ রোড এলাকার নেছার উদ্দিন মুন্সির ছেলে পান্নু মুন্সি (৫০) এবং কুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের জসিম বেপারীর ছেলে ইজিবাইকচালক সাগর বেপারী। নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। বাকি চারজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, ‘সার্বিক পরিবহন’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাস মাদারীপুর থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। অতিরিক্ত গতিতে চলার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি সড়কের পাশের খাদে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকচালকসহ চারজনের মৃত্যু হয়।

পরে স্থানীয়রা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত এক নারী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওই অংশটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় এবং যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগতির যান চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের পুলিশ ইনচার্জ এএসআই আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনাটি আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে।

মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।