সারাদেশ
টেকনাফে জেলেদের জালে ১৫ মণ ওজনের মাছ, ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি
কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলের সাবরাং মুন্ডার ডেইল এলাকায় এক জেলের জালে ধরা পড়েছে প্রায় ১৫ মণ (৬০০ কেজি) ওজনের বিশাল আকৃতির একটি মাছ। বিশাল আকারের মাছটি স্থানীয় জেলেদের কাছে শাপলা পাতা নামে পরিচিত।
বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী এই হাঙর-প্রজাতির মাছটি ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও, মাছটিকে শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে সাবরাং মুন্ডার ডেইল উপকূলে জেলে আবদুল গফুরের জালে মাছটি ধরা পড়ে। মাছটি অতিরিক্ত ওজনের হওয়ায় ট্রলারে তোলা সম্ভব হয়নি। পরে অন্য জেলেদের সহায়তায় রশি দিয়ে বেঁধে মাছটিকে উপকূলে টেনে আনতে হয়।
জেলে আবদুল গফুর জানান, "এত বিশাল আকারের শাপলাপাতা মাছ জীবনে প্রথম দেখলাম। সাগর থেকে উপকূলে আনতে অনেক কষ্ট হয়েছে।"
মাছটি দেখতে অদ্ভুত দর্শন হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ঘাটে উৎসুক জনতা ও মেরিন ড্রাইভ দিয়ে যাওয়া পর্যটকেরা ভিড় করেন। স্থানীয় জেলেদের ধারণা, মাছটি গভীর সমুদ্রের বাসিন্দা হলেও সাগরের জোয়ার-ভাটার পানির সঙ্গে উপকূলে এসে জালে ধরা পড়েছে।
শাপলাপাতা বা পাতা হাঙর হিসেবে পরিচিত এই মাছটি হাঙর প্রজাতির স্টিংরে পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং বাংলাদেশের বন্য প্রাণী আইনে এটি একটি সংরক্ষিত জলজ বন্য প্রাণী। এটিকে ধরা, সংগ্রহ, পরিবহন বা কেনা-বেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী ছৈয়দ আলম মাছটি ৫০ হাজার টাকায় কিনে নেন। ছৈয়দ আলম জানান, তিনি মাছটি কেটে টুকরা টুকরা করে চট্টগ্রামে পাঠাবেন।
নিষিদ্ধ মাছ ধরা ও বিক্রির বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, "বিশাল আকারের এই শাপলা পাতা বা পাতা হাঙর ধরা নিষিদ্ধ।"
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন বলে জানালেও দ্রুত এ বিষয়ে খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, "শাপলাপাতা মাছ ধরা ও বিক্রি বন্য প্রাণী আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যে ব্যবসায়ী মাছটি কিনেছেন, তাঁর অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বাংলাদেশ বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর ধারা ৩৮ অনুযায়ী সংরক্ষিত বন্য প্রাণী হত্যা, সংগ্রহ, বিক্রি বা কেনা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।