সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গা-১ আসন নিয়ে টানাপোড়েন: এনসিপির দাবি, জামায়াতের ‘না’


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

চুয়াডাঙ্গা-১ আসন নিয়ে টানাপোড়েন: এনসিপির দাবি, জামায়াতের ‘না’
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনকে কেন্দ্র করে ১১ দলীয় জোটের ভেতরেই তৈরি হয়েছে মতভেদ। এই আসনে এনসিপি প্রার্থী দিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও জামায়াতে ইসলামী তা মানতে নারাজ। স্থানীয় রাজনীতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থীকে ঘিরেই জোটের ভেতরে জোরালো অবস্থান তৈরি হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী থাকলেও তাদের মধ্যে পাঁচজনই ১১ দলীয় জোটভুক্ত। তারা হলেন—জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সভাপতি হাসানুজ্জামান সজিব, একই দলের জেলা সহ-সভাপতি জহুরুল ইসলাম আজিজি, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মো. ফারুক এহসান।

৫ আগস্টের পর থেকেই জামায়াতে ইসলামী এই আসনে মাসুদ পারভেজ রাসেলকে প্রার্থী ঘোষণা করে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করে। ফলে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের মাঠে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন জামায়াত মনোনীত এই প্রার্থী। তার পরের অবস্থানে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের হাসানুজ্জামান সজিব, এরপর এবি পার্টির আব্দুল্লাহ আল মামুন, জহুরুল ইসলাম আজিজি এবং সর্বশেষ এনসিপির প্রার্থী মোল্লা মো. ফারুক এহসান।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, এনসিপি একটি নতুন দল হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রায় নেই বললেই চলে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এখনো শক্ত কোনো কাঠামো গড়ে ওঠেনি। পুরো আসনে এনসিপির দৃশ্যমান নির্বাচনী তৎপরতাও চোখে পড়েনি।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনটি সদর উপজেলার ৬টি ও আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন, ২টি পৌরসভা ও ২টি থানা নিয়ে গঠিত। এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭ হাজার ৪৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫১ হাজার ৯৭১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫০৩ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৭ জন।

জানা গেছে, সদর উপজেলার পদ্মবিলা ও মাখালডাঙ্গা—এই দুই ইউনিয়নে এনসিপির কমিটি থাকলেও কার্যক্রম নেই। জেলা শহরে একটি অফিস থাকলেও সেটিও ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত। আলমডাঙ্গা উপজেলায় দলটির কোনো অফিস বা দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই বলে দাবি স্থানীয়দের।

আলমডাঙ্গা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আরাফাত রহমান বলেন, “১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে আলমডাঙ্গা হলেও এনসিপির কোনো অফিস বা কার্যক্রম নেই।”
এনসিপির সদর উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান টিটন বলেন, “জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পার হলেও ফারুক মোল্লা চুয়াডাঙ্গাবাসীর জন্য দৃশ্যমান কিছু করেননি। জেলায় শতজন মানুষও তাকে চেনে না।”

এনসিপির সাবেক জেলা ১ নম্বর যুগ্ম সমন্বয়কারী আমির হোসেন সমির বলেন, “মাসুদ পারভেজ রাসেল জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত। ফারুক মোল্লাকে দিয়ে নির্বাচন করলে জোট নিশ্চিতভাবে এই আসন হারাবে। তিনি ঢাকায় থাকেন, সেখানে নির্বাচন করলেই ভালো।”

স্থানীয় বাসিন্দারাও একই মত প্রকাশ করছেন। আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার বাসিন্দা আমান উদ্দিন বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি একবার এলাকায় এসেছিলেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর আর কোনো কার্যক্রম নেই। এনসিপির ভোট বড়জোর ১০০–১৫০ হতে পারে। তার জন্য জোটের আসন ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না।”

এদিকে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী মোল্লা মো. ফারুক এহসান বলেন, “চুয়াডাঙ্গার মানুষের প্রধান চাহিদা কর্মসংস্থান। আমি নির্বাচিত হলে এখানে ইপিজেড প্রতিষ্ঠা এবং মংলা বন্দরের সুবিধা কাজে লাগিয়ে রফতানিমুখী শিল্প গড়ে তোলার জন্য কাজ করব।” তিনি স্বীকার করেন, জনবল ও কার্যক্রম সীমিত হলেও জামায়াতের ওপর ভরসা করেই তিনি নির্বাচন করতে চান।

অন্যদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলের জনপ্রিয়তা এই আসনে তুঙ্গে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফের সঙ্গে তার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াত, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী তৎপরতা দৃশ্যমান হলেও এবি পার্টি ও এনসিপির কার্যক্রম এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে চোখে পড়েনি। ফলে এই আসনে জোট প্রার্থী হিসেবে কাকে চূড়ান্ত করা হবে—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে।