সারাদেশ

জামায়াত নেতার ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৪ এএম

জামায়াত নেতার ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভোটারদের মাঝে নগদ টাকা বিতরণের সময় জনতার তোপের মুখে জামায়াত নেতা’- এমন শিরোনামে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।

ভিডিওতে দাবি করা হয়, কাজী নূরুল ইসলাম নামের এক জামায়াত নেতা ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করছেন এবং এ সময় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলমসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ভাইরাল হওয়া মাত্র ১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনজন ব্যক্তি ক্যামেরার দিকে হাত উঁচু করে এক হাজার ও পাঁচশ টাকার নোট দেখাচ্ছেন। ভিডিওতে কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়- “টেহা দিছে, এই যে টেহা দিছে।”

তবে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট–এর তদন্তে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। স্থানীয় সাংবাদিক, পুলিশ এবং বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিরা মূলত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যা প্রথমে প্রকাশিত সংবাদগুলোর দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তদন্তে জানা যায়, ভিডিওতে ফুলহাতা সাদা শার্ট পরা যে ব্যক্তি এক হাজার টাকার নোট দেখাচ্ছেন, তার নাম বৈ খাঁ। তিনি স্থানীয় বিএনপির কর্মী এবং তার বাবার নাম মেগবর খাঁ। একই ভিডিওতে হলুদ শার্ট ও কালো জ্যাকেট পরা যে ব্যক্তি মোবাইলে কথা বলতে বলতে অন্য হাতে পাঁচশ টাকার নোট দেখাচ্ছেন, তার নাম ইসমাইল-তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

ভিডিওর আরেক অংশে দেখা যায়, হলুদ গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরা এক যুবক পাঁচশ টাকার নোট এক বৃদ্ধের হাতে গুঁজে দিচ্ছেন। ওই যুবকের নাম শামীম। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অর্জুনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিয়ামত খাঁ দ্য ডিসেন্টকে জানান, শামীম একই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি।

যার হাতে শামীম দুটি পাঁচশ টাকার নোট তুলে দেন, তার নাম নুরুল ইসলাম। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন বলে একাধিক স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ভিডিওতে আরও দেখা যায় লাবু খাঁ নামের এক ব্যক্তিকে- লাল দাড়ি ও টুপি পরিহিত এই ব্যক্তি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। তাকে ঘটনাস্থলে দেখা গেলেও কাউকে টাকা দিতে দেখা যায়নি। ভিডিওর শুরুতে পাঞ্জাবি পরা লাল দাড়িওয়ালা যে ব্যক্তিকে মোবাইলে কথা বলতে বলতে সামনে এগোতে দেখা যায়, তিনি জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন সভাপতি কাজী নুরুল ইসলাম।

ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট জানতে দ্য ডিসেন্ট সাড়ে চার মিনিটের আরেকটি ভিডিও সংগ্রহ করে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাড়ির উঠানে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ চলছে। সেখানে জামায়াতের এক নেতাকে বলতে শোনা যায়,
“আপনারা এরকম করলেন কেন? আপনাদের কাজে কি আমরা বাধা দিছি?”

এর জবাবে বিএনপি পক্ষের এক বয়স্ক ব্যক্তি বলেন, “ভোট চাইবেন, মিটিং করবেন কিয়েরে? সভাপতির বাড়িতে এসে…”

স্থানীয় একাধিক সাংবাদিক জানান, বুধবার সকাল ১০টার দিকে অর্জুনা ইউনিয়নের জগতপুরা গ্রামের মধ্যপাড়ায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভোটের গণসংযোগে যান। এ কার্যক্রমের নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি কাজী নুরুল ইসলাম এবং উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম। ওই গ্রামেরই বাসিন্দা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিয়ামত আলী খাঁ। গণসংযোগ চলাকালে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী এসে এতে বাধা দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এক ভিডিও বার্তায় উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম দাবি করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে থাকা একজনকে চেয়ার দিয়ে মারধর করা হয়, তাকে শ্বাসরোধ ও দাড়ি টেনে নির্যাতন করা হয়। পরে ঘটনাটি আড়াল করতে বিএনপি সমর্থকরাই নিজেদের টাকা বের করে ‘ভোটের টাকা বিতরণ’ বলে অপপ্রচার চালায়।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাব্বির রহমান বলেন, “জামায়াতের লোকজন সেখানে কোনো টাকা বিতরণ করেনি। বিএনপি সমর্থকরাই টাকা বের করে ভিডিও করেছে। ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছিল।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান জানান, ঘটনার পরপরই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, জুডিশিয়ারি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রাজিব হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তি হয়েছে, তবে একেক পক্ষ একেক দাবি করছে। সরাসরি চোখের সামনে অপরাধ না ঘটলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেওয়া কঠিন।”

 

ভূঞাপুরে একজনের হাতে টাকা তুলে দেয়া ব্যক্তিটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি শামীম ”১৯ সেকেন্ডের ভিডিও আরও দেখা যাচ্ছে লাবু...

Posted by The Dissent on Wednesday, January 28, 2026

ভাইরাল ভিডিও ঘিরে এই ভিন্ন ভিন্ন দাবি ও পাল্টা অভিযোগ নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে, একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে।