সারাদেশ
নওগাঁয় ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে জামায়াত–বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ৫
নওগাঁ-৫ (নওগাঁ সদর) আসনে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার চক গোপাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের চক গোপাই গ্রামে মঙ্গলবার বিকেলে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে আহত পাঁচজনকে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন—হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের কাটখইড় গ্রামের হাসান প্রামানিক (৩৮), একই এলাকার জাহিদ হাসান (২৫), হাঁসাইগাড়ী গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান (৫৮), চকরামপুর গ্রামের রুস্তম আলী (৪০) এবং চক গোপাই গ্রামের রাকিব হাসান (২০)।
হামলায় আহত ছাত্রদল কর্মী রাকিব হাসান বলেন, ‘জামায়াতের কর্মীরা আমাদের গ্রামে (চক গোপাই) প্রচারণা চালাচ্ছিল। এ সময় আমরাও সেখানে যাই এবং ছবি তুলছিলাম। ছবি তোলায় বাধা দিলে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
নওগাঁ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রহিম বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচারণা চালান। পরে চক গোপাই গ্রামে জামায়াতের প্রার্থী আ স ম সায়েম গণসংযোগ শেষে একটি বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির সন্ত্রাসীরা পাইপ নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে আমাদের আটজন কর্মী আহত হন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের চক গোপাই গাবতলী এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হয়। এ সময় স্থানীয় এক যুবক গোপনে ভিডিও ধারণ করতে গেলে জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সঙ্গে জামায়াতের নেতাকর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি ও ছাত্রদলের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।’